• A
  • A
  • A
মাদক পাচারে অভিযুক্ত কলেজ-ছাত্রী, জামিন মঞ্জুর

দমদম, ১৩ জুন : জেলবন্দী প্রেমিককে গাঁজা সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়ল কলেজ-ছাত্রী। নাম সুস্মিতা মালাকার। তাকে গ্রেপ্তার করেছে দমদম থানার পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে গাঁজা। আজ অভিযুক্তকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে জামিন দেন।

ফোটো : ধৃত মাদক পাচারকারী, ভিডিও : সুস্মিতার বাবার বক্তব্য


আমডাঙা এলাকায় বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ভগীরথ সরকার। সে অনেকদিন ধরেই জেলবন্দী। গতকাল ভগীরথের সঙ্গে দেখা করতে আসে সুস্মিতা। সঙ্গে ছিল পাউডারের কৌটো। তার মধ্যে ছিল গাঁজা। কৌটো নিয়ে ঢুকতে গেলে কারারক্ষীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা আটকান। খুলে দেখেন কৌটোয় আছে গাঁজা। এরপর বমাল সুস্মিতাকে গ্রেপ্তার করে দমদম পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হয় ২৯৫ গ্রাম গাঁজা।



সুস্মিতা মালাকার

সুস্মিতা বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা। মধ্যমগ্রামের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজের সংস্কৃত অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার সঙ্গে ভগীরথ সরকারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ভগীরথ আমডাঙা এলাকার দুষ্কৃতী। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ছটি মামলা রয়েছে। দমদম পুলিশ সূত্রে খবর, ভগীরথের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত সুস্মিতা। ভগীরথের সঙ্গে একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল তারও। কিন্তু, নাগাল পেয়েও তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। বীজপুর থানায় একটি মামলাতেও ফেরার সুস্মিতা। যদিও এই অভিযোগগুলো মানতে চায়নি বীজপুর থানার পুলিশ। এদিকে দমদম থানার এক অফিসার জানান, কখনও বোরখা পরে আবার কখনও “লুক চেঞ্জ” করে বারবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছে সুস্মিতা। কিন্তু, গতরাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়।

সুস্মিতার বাবা সঞ্জয় মালাকার বলেন, “কাল কলেজের নাম করে মেয়ে সকাল ১০টা নাগাদ বেরিয়েছিল। বিকেল থেকে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। বলেছিল, প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরবে। আটটা-সাড়ে আটটা বেজে গেলেও বাড়ি ফিরছে না দেখে আমরা খোঁজখবর শুরু করি। রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দত্তপুকুর থানায় মিসিং ডায়েরি করতে যাই। ১২টা নাগাদ দমদম থানা থেকে আমাকে ফোন করা হয়। বলা হয়, মেয়ে নাকি মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। বিশ্বাস করুন, আমার মেয়ের কোনও বদনাম নেই। কোনও সমস্যা নেই। পড়াশোনা করে ঠিকঠাক। মনে হচ্ছে, কেউ ওকে ফাঁসিয়েছে।” সঞ্জয়বাবু ভগীরথের নাম আগে কখনও শোনেননি বলে জানান। তিনি বলেন, “আগে নাম শুনিনি। কালকের ঘটনা ঘটার পর...শোনার পর থেকে আমরা নাম জানলাম।” স্থানীয়রাও বলছেন, "সুস্মিতা খুব ভালো মেয়ে। ও উচ্চমাধ্যমিকেও ভালো ফল করেছিল। ওর কোনও বদনাম নেই।"

আদালতের পথে

আজ ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয় সুস্মিতাকে। বিচারক এন থাপা তার জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি জানান, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী কোনও পড়ুয়ার কাছ থেকে ৫০০ গ্রামের কম নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হলে তা জামিনযোগ্য বলে গণ্য হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুস্মিতার কাছে ২৯৫ গ্রাম গাঁজা ছিল। আদালতের বাইরে সুস্মিতার আইনজীবী জয়কুমার সাহা বলেন, "সুস্মিতা মালাকার এ পি সি কলেজের ছাত্রী। গতকাল সেন্ট্রাল জেলে ওর এক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা করতে যায়। তখন সে একটা একটি পাউডারের ডিব্বা একজনকে দিয়ে দিতে বলে। দিতে গিয়েই ধরা পড়ে। তাতে দেখা যায়, ডিব্বায় পাউডার তো ছিলই সঙ্গে শ্যাম্পুর প্যাকেট ছিল, ব্লেড ছিল আর কয়েকটা গাঁজার টুকরো ছিল। এটা বেআইনি সেই কারণে তাকে ধরা হয় এবং থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।"

আইনজীবী জানিয়েছেন, সুস্মিতার বিরুদ্ধে ৪৫০, ১২০ B, ২০ B NDPS অ্যাক্ট, এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল কারেকশনাল অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। দমদম পুলিশ সূত্রে আরও একাধিক মামলায় জড়িত থাকার কথা বলা হলেও যেহেতু শুধু মাদক পাচারের অভিযোগেই সুস্মিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাই আজ ওই মামলাটিই আদালতে তোলা হয়েছিল। অন্য মামলাগুলির তদন্ত সংশ্লিষ্ট থানাগুলি করবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি আলিপুর জেলে মাদক পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েন এক চিকিৎসক। অমিতাভ চৌধুরি নামে জেলের ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে মদ, গাঁজা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়।
এই সংক্রান্ত আরও খবর : আলিপুর জেলে মাদক পাচার করতে গিয়ে ধৃত চিকিৎসক


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES