• A
  • A
  • A
হাইকোর্টে কাল ফের শুনানি পঞ্চায়েত মামলার

কলকাতা, ১৭ এপ্রিল : আজও কলকাতা হাইকোর্টে পঞ্চায়েত মামলার নিস্পত্তি হল না। আগামীকাল ফের শুনানি হবে। বাড়ছে স্থগিতাদেশের সময়সীমাও। আজ দুপুর ২টো নাগাদ বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চে পঞ্চায়েত মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা বিচারপতি সুব্রত তালুকদার আদালত কেন হস্তক্ষেপ করবে না, তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েক কাছে জানতে চান। আগামীকালও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করবেন। পাশাপাশি, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শুনবে আদালত। ১২ এপ্রিল বিচারপতি সুব্রত তালুকদার পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অর্ন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন।


আজ শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।” বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সব পক্ষের বক্তব্য শুনবো।”


ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কমিশন নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করেছে। বাহিনীর প্রয়োজন হলে কমিশন সিদ্বান্ত নেবে। সংবিধান তাকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে" তিনি আরও বলেন, "১০ এপ্রিল মনোনয়ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে BJP মামলা করেনি। মামলা করে CPI(M), কংগ্রেস এবং PDS। তাহলে কেন BJP-র বক্তব্যর ভিত্তিতে হাইকোর্ট পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্তগিতাদেশ দিল। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে কোনও রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে। নির্বাচন কমিশন অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। সেই অধিকার আছে কমিশনের। তৃণমূল কংগ্রেসও নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিতের জন্য সমস্যায় পড়েছে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।”

বিরোধীদের তরফে তোলা মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারার অভিযোগ নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক দল দাঁড়াতে না চাইলে আমার কী করব। BJP অভিযোগ করছে, তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছে না। অথচ, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ৮ হাজার বুথে প্রার্থী দিয়েছিল BJP। এবার তারা ৩৮ হাজার বুথে প্রার্থী দিয়েছে। ভোটের ময়দানে না নেমে ঠান্ডা ঘরে বসে বিরোধীরা শুধু চিৎকার করছে। আর বলছে, তারা নাকি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছে না।"

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বলেন, "৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছিল। আমার প্রশ্ন, ৯ এপ্রিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র জমার সময়সীমা বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করেও কেন তা পরেরদিন প্রত্যাহার করল? এবিষয়ে আপনারা কী মনে করেন কল্যাণবাবু?"

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আজ আদালতে এমনই সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা বিচারপতি তালুকদার বলেন, "আমি মনে করছি এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে। আপনি আমাকে বলুন কেন আমি পঞ্চায়েত নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করব না?

বিচারপতির বক্তব্য শুনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "পঞ্চায়েত মামলা এখানেই শেষ নয়। হাইকোর্টের নির্দেশ কোনও একপক্ষের দিকে যাবে ঠিকই। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা থাকছে। সেখানেই ফের আবেদন করবে অন্যপক্ষ।"

প্রসঙ্গত, ১২ এপ্রিল বিচারপতি সুব্রত তালুকদার পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অর্ন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ১৩ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তাঁরা এই মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না। সিঙ্গল বেঞ্চেই শুনানি হবে। নির্বাচনের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে নিয়মিত শুনানি হবে।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES