• A
  • A
  • A
দুর্গাপুজোয় নির্বাচন করি না রমজানে কেন হবে ? প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ১৬ এপ্রিল : হাইকোর্টে মামলার জেরে আটকে গেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়া। আদৌ ১ মে নির্বাচন হবে তো ? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আগামীকাল স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মামলায় রায় দেবে সিঙ্গল বেঞ্চ। তারপরই পরিষ্কার হবে গোটা বিষয়। আদালতের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য না করলেও মুখ্যমন্ত্রী যে গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ তা ধারেভারে বুঝিয়ে দিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য


আজ নবান্ন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আদালতের বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। নো কমেন্টস ইজ় মাই অনলি কমেন্ট। কিন্তু, বাস্তবে আমরা সমস্যায় পড়ছি। প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার মেনে নির্বাচনের দিন ঠিক করা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে। পঞ্চায়েতের মনোনয়নও জমা পড়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ হয়েছে। লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের নমিনেশনও অনেক জায়গায় হয়ে গেছে। এবং SDO অফিসেও নমিনেশন নেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন সমস্যা হবে ? আমার কথা হচ্ছে, CPI(M), কংগ্রেস আর BJP যাদের আমি জগাই-মাধাই আর বিদাই বলি, তারা নাটক, কুৎসা ও অপপ্রচার করছে টেলিভিশনে মুখ দেখাবার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “ভোট মানে হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার। তোমরা যদি সত্যি মানুষকে বিশ্বাস করো তাহলে ভোটে যাচ্ছ না কেন ? ভোটে না গিয়ে রোজ তুমি বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলে ইচ্ছা করে দেরি করছ। এই প্রশ্ন তো আমিও তুলতে পারি। খারাপ লাগছে এই কারণে, বাংলার উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে। আমাদের সমস্যা যেটা হচ্ছে, নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার ফলে নতুন কোনও প্রোজেক্ট করা যাচ্ছে না। সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পড়ে আছে তার কাজও ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে বাংলা পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলার উন্নয়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। এটা আমার খারাপ লাগছে। আমাকেও আপনারা দেখছেন। সকাল থেকে এসে অফিসে বসে আছি। কোড অফ কন্ডাক্টের জন্য একটা ফাইল আসছে না। জেলায় জেলায় গিয়ে মিটিং করতে পারছি না।”


এই সংক্রান্ত আরও খবর : অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কাল পর্যন্ত বাড়াল সিঙ্গল বেঞ্চ

নির্বাচন পিছিয়ে গেলে কাজ যে আরও থমকে যাবে তাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি বেশ কয়েকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। বলেন, “কাজটা পিছিয়ে যাচ্ছে। এই সময় আর ফিরে পাব না। পঞ্চায়েত কমিশন নির্বাচন শেষ করে ফেলে ১৫ মে-র মধ্যে। এরপর এত গরম পড়ে যায় যে মানুষ পারে না। আগেরবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় মানুষ মারা গেছে। ভোটকর্মী মারা গেছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমে খুব গরম পড়ে। ৫০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। তারপরই বর্ষা নামে। আগেরবার আমরা নির্বাচন (পঞ্চায়েত) করেছিলাম জুলাই-অগাস্টে। নির্বাচন কমিশন এই কোর্টে গিয়েছিল, সেই কোর্টে গিয়েছিল। ফলে আমাকে বন্যার সময় নির্বাচন করতে হয়েছে। রমজান মাসে নির্বাচন করতে হয়েছে। ৩০ শতাংশ মানুষ রমজান মাস পালন করে। এসময় বাংলাদেশে সব সরকারি অফিস বন্ধ থাকে। ছুটি দিয়ে দেয়। মনে রাখবেন, বড়দিনের উৎসবে আমি এমন কিছু করব না যাতে উৎসব ব্যাহত হয়। দুর্গাপুজোর উৎসবে আমি এসব করতে পারি না। কারণ, এটা আমাদের জাতীয় উৎসব। এরকম এক-একটা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এক-একটা উৎসব আছে। সেই উৎসবগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারি না। ফলে সবকিছু ভেবেচিন্তেই এই জিনিসগুলো করা হয়েছে।”

এই সংক্রান্ত আরও খবর : পঞ্চায়েত মামলার রায় সিঙ্গল বেঞ্চেই, জানাল ডিভিশন বেঞ্চ

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের বিরোধী দলগুলি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাই, তারা নির্বাচন আটকানোর চেষ্টা করছে। এবিষয়ে তিনি বলেন, “ইস্যুগুলো করা হয়েছে কারণ বড় বড় পলিটিকাল পার্টি তৈরি ছিল না। তৈরি থাকে না। কারণ, সারা বছর তো তারা টিভিতে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়। প্রার্থী না থাকলে কী করা যাবে ? আমার পক্ষে তো দেখা সম্ভব নয় কার কোথায় প্রার্থী আছে! ২০০৩ সালে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ৩০ হাজার আসনে প্রার্থী দিয়েছিলাম। ২০০৮-এ ৩৫ হাজার আসনে প্রার্থী দিয়েছিলাম। BJP ২০১৩ সালে ১১ হাজার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। আর আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার আসনে। আমি আপনাদের আগেও বলেছি, আবার বলছি, বিরোধীরা মোট ৭৪ হাজার মনোনয়ন জমা দিয়েছে। আর নির্দল মিলিয়ে দেখলে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে ৯০ হাজার। বুথ কত ? ৫৮ হাজার। ৫৮ হাজারে তোমার ৯০ হাজার প্রার্থী আছে। তারমধ্যেও তুমি সন্ত্রাসের নাটক করছ। আর সন্ত্রাসের গল্প করছ। আমরা ভুলে গেছি, জিভ কেটে নেওয়া, চোখ উপড়ে দেওয়া, হাত কেটে নেওয়া, কই মাছ ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া ! শুধু ২০০৩-এর নির্বাচনে কত মানুষ মারা গেছে খোঁজ নিন। ২০০৮-এ কতজন মারা গেছে খোঁজ নিন। আজ সন্ত্রাসের নামে গল্প শোনানো হচ্ছে। মনোনয়নপর্ব চলাকালীন ৭টি ঘটনা ঘটেছে।”

এই সংক্রান্ত আরও খবর : ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় মানুষের জয় : মুকুল রায়

সরকারের বিরুদ্ধে একটি মিডিয়া হাউজ় চক্রান্ত করছে বলে ফের একবার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওরা সত্য খবর করুক। আমাকে চোর, ডাকাত, খুনি যা ইচ্ছে বলুক যায় আসে না।” CPI(M)-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “CPI(M)-এর হার্মাদরা নাকি মনোনয়ন জমা করতে পারেনি। কে বারণ করেছিল ? CPI(M)-র হার্মাদরাই তো আজ BJP-র ওস্তাদ হয়ে গেছে। তুমি তোমার পার্টিটাকে BJP-র কাছে বিক্রি করে দিয়েছ। আর কংগ্রেস নেতাদের জিজ্ঞাসা করুন BJP, CPI(M) ও আপনাদের এক কথা হল কী করে ? দিল্লিতে সংসদ চললে আমাদের কাছে অনুরোধ করো। বলো, এসো বাবা একসঙ্গে কাজ করি। সংসদ শেষ হয়ে গেলে তোমার লোকজন BJP-র সঙ্গে ঘর করে। আগে ঠিক করো দিল্লির ঘরটা ঠিক নাকি বাংলার ঘরটা ঠিক ? CPI(M)-এর কাছেও আমার প্রশ্ন থাকবে দিল্লির ঘরটা ঠিক নাকি বাংলার ঘর ঠিক ? আর BJP-র কাছে আমার কোনও প্রশ্ন নেই। কারণ, চিরকালই ওরা হিংসা করে। হিংসা থেকে শিশুচুরি, কাজটা ওদের পুরোপুরি। গুন্ডা ওদের ভূরি ভূরি। আমরা সবাই জানি দেশের মানুষ আজ BJP-কে পছন্দ করছে না।”


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES