• A
  • A
  • A
পার্থর ঘরে বৈঠক শেষে তৃণমূলেই ফিরলেন BJP প্রার্থী

কলকাতা, ১৬ এপ্রিল : পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট পাননি। ক্ষোভে দল ছেড়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন BJP-তে। পার্থ চ্যাটার্জির হাত ধরে ফের তৃণমূলে ফিরলেন সুনীলকুমার পাল। তিনি নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য।

সুনীলকুমার পালের বক্তব্য


গতবার নির্বাচনে জিতে জেলা পরিষদ সদস্য হয়েছিলেন সুনীল। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এবারও দল প্রার্থী করবে। এরজন্য জেলা নেতৃত্বের কাছে আবেদনও করেন। কিন্তু, তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি জেলা ও রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। ক্ষোভে দল ছেড়েছিলেন। BJP-ও সুযোগ পেয়ে তাঁকে প্রার্থী করে। কিন্তু, আজ পার্থবাবুর সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন সুনীল।


আজ সকালে পার্থ চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা করতে তাঁর নাকতলার বাড়িতে আসেন সুনীল। সঙ্গে ছিলেন কল্যাণী-রানাঘাট মহকুমার তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি শংকর সিং। তিনজনের একপ্রস্থ আলোচনা হয়। এরপরই ফের তৃণমূলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন সুনীল। সাংবাদিক বৈঠকে পার্থবাবুর পাশে বসে তিনি বলেন, “রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ ছিল, জনপ্রতিনিধিদের জেলার মধ্যে যে কোনও জায়গায় প্রার্থী করতে হবে। জেলা নেতৃত্বের কাছে আমি আবেদনও করেছিলাম। লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। জেলা নেতৃত্ব আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। যার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে হয়ে পড়ি। ক্ষোভে BJP-তে যোগদান করি। নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিই। মাননীয় মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর কথায় আমি এসেছি। সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তাঁর কথাবার্তা শোনার পর আমার খুবই ভালো লেগেছে। ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দলের হয়ে কাজ করার ব্যাপারে উনি উৎসাহিত করেছেন। পশ্চিমবাংলায় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে যে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে আমি তার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।” গোটা বিষয়টি নিয়ে পার্থবাবু বলেন, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল।”


মুকুল রায়ের হাত থেকে পতাকা তুলে নিচ্ছেন সুনীল পাল (ফাইল ফোটো)

এবিষয়ে নদিয়া উত্তর BJP সাংগঠনিক সভাপতি মহাদেব সরকার বলেন, “সুনীল পাল ভালো লোক। ভদ্র লোক। উনি থাকলে পার্টির ভালো হত। বন্য পশুর মন থেকে যেমন বনকে সরিয়ে রাখা যায় না, তেমনই পদ্মফুল যাঁর হৃদয়ে একবার স্পর্শ করেছে তাঁর কাছ থেকে পদ্মফুলকে সরিয়ে রাখা যাবে না। উনি আবার ফিরে আসবেন। সন্ত্রাস করে ও মানসিক চাপ দিয়ে ওনাকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

সুনীলের মতোই দলের উপর ক্ষুব্ধ সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি, ত্বহা সিদ্দিকিরাও। সূত্রের খবর, মনোনয়নপর্বে তৃণমূলের ‘সন্ত্রাস’ মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। তাই, দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। এমনকী, পার্থবাবুর সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন। আজ পার্থবাবুকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা মিটে যাবে।”

এদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তৃণমূল মহাসচিবকে। তিনি বলেন, “বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। সেখানে আমরা নিজেদের যুক্তি দিতে পারি। তাদের অসম্মান, অপমান বা অশ্রদ্ধা করার কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই।” এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচন জাতীয়স্তরেও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে পার্থবাবু বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একা লড়াই করছেন। তাই, পঞ্চায়েত নির্বাচন জাতীয়স্তরে গুরুত্ব পাচ্ছে।”


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES