• A
  • A
  • A
আমার লুকোনোর কিছু নেই, অকপট বৈশাখি

কলকাতা, ১৪ মার্চ : কয়েকদিন ধরে খবরের শিরোনামে রয়েছেন কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র শোভন চ্যাটার্জি এবং তাঁর “বন্ধু” অধ্যাপিকা বৈশাখি ব্যানার্জি। গতকাল সংবাদমাধ্যমকে শোভনবাবু বলেন, “বৈশাখির উপর আঘাত আসার আগে সে আঘাত যেন আমার উপর আসে।” শোভনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আজ বৈশাখি বলেন, “আমি সারা জীবন ওঁর (শোভন চ্যাটার্জি) পাশে থাকব।"

শুনুন বৈশাখী ব্যানার্জির বক্তব্য


ইনাডু বাংলার তরফে আমরা যা প্রশ্ন করেছিলাম, তার সোজাসাপটা জবাব দেন বৈশাখি ব্যানার্জি।



ইনাডু বাংলা : শোভনদা কী এমন দেখেছিলেন যে কারণে তিনি স্ত্রী রত্না চ্যাটার্জির কাছ থেকে সরে এলেন?


বৈশাখি : ডিভোর্স পিটিশনে আমি যা দেখেছি ও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে যা জেনেছি, শোভনদা দীর্ঘদিন ধরে রত্না চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের প্রমাণ পাচ্ছিলেন। তাই তিনি সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ইনাডু বাংলা : আপনাকে আর শোভনদাকে তো শপিং মলে দেখা যায়?


বৈশাখি : একটা মানুষ যে জীবনে কিছু নিজে হাতে কেনেননি, সে তো আর লেক মার্কেটে ঘুরে ঘুরে জিনিস কিনবেন না, সে লেক মলে যাবে। তাই সেখানেই আমার সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে। যিনি নিজে কখনও কোনও জিনিস কেনেননি, তাঁকে কেনাকাটার এ বি সি ডি আমাকেই শেখাতে হয়েছে। তাঁর হাতি থেকে আলপিনের দায়িত্ব তো আমাকে দেখতেই হবে। যদি মনে হয় এটা লুকোনোর মত বিষয়, তাহলে কি আমরা পাবলিকলি আসতাম? আমাদের ব্যক্তি সুখের জন্য কলকাতার মেয়রের কাছে কি গোপন ডেরা খুঁজে পাওয়া খুব অসম্ভব ব্যাপার?


ইনাডু বাংলা : আপনাকে আর শোভনবাবুকে নিয়ে বিতর্ক হল, কেন হচ্ছে বলে মনে হয়?


বৈশাখি : দেখুন এটা আমার মনে হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাঁরা পজেটিভ কোনও কাজ করেন না, তাঁরা হয়তো একটা গল্প তৈরি করার বা আলোড়ন ফেলার চেষ্টা করছেন। আমি শোভনদাকে চিনি ২০১০ থেকে। এতদিন পর আমার আর ওনার বন্ধুত্ব নিয়ে কেন আলোড়ন সেটার কারণ আমি বুঝতে পারছি না।

ইনাডু বাংলা : আপনার সঙ্গে মেয়রের বন্ধুত্ব কেমন?

বৈশাখি : বন্ধুত্বের কোনও সংজ্ঞা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আমার কাছে চিরস্থায়ী ও নিস্বার্থ সম্পর্কই বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আমার মূল্যবোধ ও আদর্শ যদি কারও সঙ্গে মেলে তাহলে যে কারও সঙ্গেই বন্ধুত্ব হতে পারে। শোভনদার সঙ্গেও আমার একইভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ইনাডু বাংলা : শোভনবাবু বলছেন, আপনার উপরে কোনও আঘাত আসার আগে যেন তাঁর উপরে আসে, এটা কি শুধুই বন্ধুত্ব থেকে বলেছেন?


বৈশাখি : একেবারেই। এটা শুধু আমার জন্য নয়। ওনার কোনও অনুগতর উপরে যদি কোনও আঘাত নেমে আসে, তাহলে উনি সেটা বুক পেতে আগলান। আজকে আমার জন্য উনি ক্যামেরার সামনে বলেছেন। এর আগে অনেক অনুগতকে বাঁচাতে অনেক মার খেয়েছেন। অনেক রক্ত ঝরেছে শোভনদার।

ইনাডু বাংলা : আপনার কি মনে হয়, মেয়র ও তাঁর স্ত্রী মধ্যে যা কিছু সমস্যা হচ্ছে তার কারণ আপনি?

বৈশাখি : না। কোনওভাবেই হতে পারে না। স্ত্রীর সঙ্গে ওনার সমস্যার কারণগুলি উনি হলফনামাতে বলেছেন, যেমন আর্থিক তছরুপ, প্রতারণা বা মানসিক অত্যাচার। এগুলি অনেক পুরোনো ঘটনা। তখন বৈশাখী ব্যানার্জির কোনও অস্তিত্বই ছিল না।

ইনাডু বাংলা : সম্প্রতি শোভনবাবু বলেছেন, আপনি না থাকলে ওনার অস্তিত্ব সংকট হতো। এটা নিয়ে কী বলবেন?

বৈশাখি : নিঃস্বভাবে এক কাপড়ে শোভনদা যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে তখন ওনার শরীর খারাপ, উনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। হাই ব্লাড প্রেশার, হাই সুগার। সেই অবস্থায় ওনার পাশে দাঁড়িয়েছি বলে উনি হয়তো এতটা স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি ঠিক ততটাই করেছি ওনার জন্য, যা একজন মানুষের করা উচিত।

ইনাডু বাংলা : এর আগে শোভনবাবু ও অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়চৌধুরিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আপনার কী মনে হয়, আপনার নাম সেই বিতর্কে যোগ হল?


বৈশাখি : আমি এসব বিতর্ক নিয়ে কোনওদিন মাথা ঘামাইনি। আমার জগৎ আলাদা। আমি গসিপের জগতে থাকি না। আমার পড়াশোনা আছে। আমার একটা ছোট মেয়ে আছে। আমার মা অসুস্থ। সেখানে এইসব বিতর্ক নিয়ে আগ্রহী ছিলাম না। শোভনবাবুর অতীত নিয়ে আমি যে আগ্রহী সেটাও নয়। আমাকে নিয়ে কেন বিতর্ক হচ্ছে সেটা আমি বুঝতে পারছি না। শোভন চ্যাটার্জির সঙ্গে আমার সুখে-দুঃখে অনেক বছর কেটেছে। সেখানে আজকে আমার নাম বিশেষ করে তুলে ধরার চেষ্টা কেন হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছি না।

ইনাডু বাংলা : বলা হচ্ছে বৈশাখি ব্যানার্জির জন্য শোভনবাবু একসময় দলের সব পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন। রাজনৈতিক সন্ন্যাসের কথা ভেবেছিলেন। পরে সেটা মিটে যায়। আপনার এতে কী বলার রয়েছে?


বৈশাখি : দেখুন আমাকে নিয়ে বিতর্ক কতটা ভিত্তিহীন, সেটা এটা থেকেই বোঝা যায়। আমাকে যদি WBCUPA থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য শোভনবাবু দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আজ তো আমি ওয়েবকুপা থেকে সরেই রয়েছি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে মিটমাট হল? কারণ শোভন চ্যাটার্জি তো কালকেও বলেছেন, তিনি বৈশাখীর পাশে রয়েছেন, থাকবেন। তাহলে আমিই যদি কারণ হতাম, তাহলে আমাকে না সরালে তো কোনও মিটমাটের চান্স ছিল না। এটা পুরোটাই গুজব। পুরোটাই গল্প। কোনও একটা জায়গা থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় সরে গেলে হয়তো কোনও কোনও মানুষের উপকার হবে, তারাই হয়তো এসব বলছে।

ইনাডু বাংলা : শোভনবাবু বলেছেন উনি আমৃত্যু আপনার পাশে থাকবেন। আপনিও কী একই কথা বলছেন?


বৈশাখি : হ্যাঁ নিশ্চয়। আমি সারা জীবন ওনার পাশে থাকবো।

ইনাডু বাংলা : শোভনবাবু কি একমাত্র মানুষ যার সঙ্গে আপনি এই ধরনের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ?


বৈশাখি : প্রত্যেকটি বন্ধুর প্রতি আমি কমিটেড। সেটা শোভনদা হলে যা, অন্য কেউ হলেও একই। আমার কাছে বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইনাডু বাংলা : শোভনবাবুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কী বলবেন?

বৈশাখি : আমার মনে হয় না শোভনবাবু কোনও পদের জন্য রাজনীতি করেছেন। নিজের কর্মদক্ষতায় উনি আজকে মেয়র ও মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। আমি চাইবো, যেভাবে উনি মানুষের পাশে থাকতেন, সেভাবে আগামীদিনেও থাকবেন। উনি আমাদের কাছে আদর্শ। উনি মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। উনি আরও বেশি সংখ্যায় মানুষকে তৃণমূলে আনুন। যারা ওনার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হবেন।

ইনাডু বাংলা : একসময় বলা হতো আপনি পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ, যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন ওনার কেউ ঘনিষ্ঠ নয়।

বৈশাখি : আমি কখনই বলিনি আমি পার্থ-ঘনিষ্ঠ। একসময় লোকেরা বলেছে আমি পার্থ-ঘনিষ্ঠ তাই পদ পেয়েছি। এখন বলছে আমি শোভন-ঘনিষ্ঠ, তাই পদ হারিয়েছি। আমার কাছে দুজনেই লিডার। শুধু আমি বলে নয়, আমার কলেজের তিনজন শিক্ষিকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যেভাবে ঋণী, সেই ঋণ মৃত্যু পর্যন্ত শোধ করা সম্ভব নয়। নিজেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করার মতো আমার স্পর্ধা নেই। আবার কোথাও নিজেকে শোভন-ঘনিষ্ঠ বলেছি বলে মনে নেই। এটা আমার সত্তার অপমান। এই অপমান আমি কখনও সইব না।

ইনাডু বাংলা : আপনার ও শোভনবাবুর বন্ধুত্বই কি WBCUPA থেকে আপনার সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ? ওয়েবকুপা ভেঙে দেওয়ার কারণ?


বৈশাখি : এটা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে যে, WBCUPA ভাঙার পিছনে আমিই কারণ। কারো স্বার্থে লাগছিল হয়তো বা আমার সাপোর্ট দেখে ভীত হয়ে যাচ্ছিল।

ইনাডু বাংলা : সেই কেউটা কারা?


বৈশাখি : সেটা আমি কী করে বলবো? সংগঠনের একাংশের সঙ্গে আমার তো মতাদর্শের তফাৎ ছিল।

ইনাডু বাংলা : এই বিতর্কে কি আপনার পারিবারিক সমস্যা তৈরি হয়েছে?

বৈশাখি : না। আমার পরিবার অত্যন্ত এডুকেটেড। আমি তাদের কাছে কিছু গোপন করিনি। কোথায় যাচ্ছি, কী খাচ্ছি, কী পরছি সেটা তাঁদের কাছে গোপন নেই। তাই আমার জীবনে কোনও অশান্তি নেই।

ইনাডু বাংলা : আপনার কাছে ক্ষমতা আগে, না বন্ধুত্ব আগে?


বৈশাখি : আমার কাছে বন্ধুত্ব আগে। ওয়েবকুপার সাধারণ সম্পাদক নামটা শুনতে ভালো লাগে। যদিও আমি কোনওদিন কাজ করতে পারিনি। আমি তিনবার পদত্যাগ করেছিলাম। আমাকে পার্থদা বলেছিলেন, তুমি দায়িত্ব পালন করো। আমি সঙ্গে রয়েছি। যতদিন বলেছেন, আমি কাজ করেছি। আমাকে সরিয়ে দিয়েছে, আমি এখন মুক্ত। আবার পড়াশোনার জগতে ফিরে যাব। আবার নান্দনিক জগতে ফিরে যাব।

ইনাডু বাংলা : শোভনবাবু বলেছেন তাঁর স্ত্রী আপনার থেকে একসময় যে সাহায্য নিয়েছিলেন সেটা তিনি ভুলে গেছেন, সেটা কী সাহায্য?

বৈশাখি : কাউকে সাহায্য করে সেটা নিয়ে আবার বলব, সেই ধরনের অভিরুচি আমার নেই। তবে বলতে পারি উনি (রত্না চ্যাটার্জি) যদি ভুলে যান তাতে আমার গৌরব বাড়বে না, আবার সম্মানহানিও হবে না। রত্না চ্যাটার্জি অন্য জগতের মানুষ। আমার কাছে তাঁর পরিচয় তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী। শোভনবাবু আমার দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আমার আদর্শ। আমার অনুপ্রেরণা।

ইনাডু বাংলা : শোভন চট্টোপাধ্যায় ও আপনাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন যাতে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেছেন। কী বলবেন?

বৈশাখি : আমি এই গুঞ্জন শুনিনি। আপনার কাছেই শুনছি। এই প্রথম শুনলাম এটা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত গেছে। এটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি জানি উনি (মুখ্যমন্ত্রী) যদি আমাকে নিয়ে কোনও আলোচনা করেন তাহলে ১০০ তে ১০০০ মার্কস দিয়ে দেন। আমি ওনার রাজ্যের একটি ছোটো কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাত্র।

ইনাডু বাংলা : মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠমহলে আপনাকে নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। আপনার কি মনে হয় না বন্ধুত্ব বাঁচাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নেকনজর থেকে সরে যাওয়া আপনার ক্ষতি?

বৈশাখি : মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনও ঘনিষ্ঠতা ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী আমার জীবনে ভগবানের মতো। আমি যেদিন থেকে বড় হয়েছি সেদিন থেকে ওনাকে একজন আগুনের নেত্রী হিসেবে দেখেছি। আমাকে একজনই অনুপ্রেরণা দেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভক্ত ও ভগবানের মতো। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে চেনেন না পর্যন্ত। আমি একটা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। আমাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন, ক্ষোভপ্রকাশ করবেন, এটা আমার মনে হয় সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার।

ইনাডু বাংলা : শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক সমস্যা নিয়ে বন্ধু হিসেবে আপনি কী চান?

বৈশাখি : এটা ওনাদের ব্যক্তিগত সমস্যা। আমি গোপনীয়তার অধিকারে বিশ্বাসী। কারও ব্যক্তিগত জীবনে কখনও হস্তক্ষেপ করি না। তারা সুখে থাকলে আমি নিশ্চয় সুখী হব।

ইনাডু বাংলা : আপনি এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে পারতেন না?

বৈশাখি : আমি মধ্যস্থতা করিনি তা নয়। আমার সামনে অনেকবার অশান্তি হতো। আমি অশান্তি মেটানোর চেষ্টা করেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের জীবন নিয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। ওনারা এক হয়ে গেলে আমার কাছে অন্য পরিচয় থাকবে। ওনারা আলাদা হয়ে গেলে রত্না চ্যাটার্জি আমার কাছে মুছে যাবেন।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES