• A
  • A
  • A
প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের মৃত্যু মামলায় এখনই গ্রেপ্তার নয় মুকুলকে: হাইকোর্ট

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি : প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য জোগাড় করতে পারেনি রাজ্য সরকার। তাই, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মুকুল রায়কে গ্রেপ্তার করতে পারবে না পুলিশ। নির্দেশ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চের।

মুকুল রায়


আজ মুকুল রায়ের আগাম জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনেরাল অভ্রতোষ মুখোপাধ্যায় হাইকোর্টের কাছে বেশ কিছুটা সময় চান। তিনি বলেন, “২০১১ সালে দুর্ঘটনাটি হয়। তিন বছর বাদে হয় FIR। ফলে তদন্তে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। বীজপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মৃণালকান্তি সিংহ রায়ের মৃত্যুর তথ্য এখনও জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ডেথ সার্টিফিকেটও হাতে আসেনি। তাই, আমাদের কিছুটা সময় দরকার।” রাজ্যের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৫ মার্চ। কিন্তু, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মুকুল রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে না। পাশাপাশি মুকুল রায়কেও তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।


২০১১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার সময় কাঁচরাপাড়া থেকে স্কুটারে করে হালিশহরে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন মৃণালবাবু। ভূতবাগানের কাছে উলটোদিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। মাটিতে পড়ে যান। মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণীর একটি হাসপাতালে। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে। মৃণালবাবুর বোন সোনালী কুণ্ডুর (সিংহ রায়) অভিযোগ, তাঁদের কিছু না জানিয়েই দাদাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছেন মুকুল রায়। এমনকী, দাদাকে দেখতে গেলেও হাসপাতালে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সোনালীদেবীর আরও অভিযোগ, “কিছুদিন পর দাদাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, হালিশহরের বাড়িতে নিয়ে আসতে দেননি মুকুল রায়। কলকাতায় আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস রোডে বৈশালী নামে একটি গেস্ট হাউজ়ে রেখে দাদার চিকিৎসা করান। মুকুল ঘনিষ্ঠ রমেশ প্রসাদ ও মি মণি নামে দু’জন তাঁর দেখাশোনা করতেন। আমি খবর পেয়ে দাদার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু, দেখা করতে দেওয়া হয়নি।” এনিয়ে ২০১১ সালের ২৬ জুন বীজপুর থানায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে যান সোনালীদেবী। পুলিশ নাকি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। এরপর কেটে যায় তিন বছর। নিরুপায় হয়ে ২০১৪ সালে ব্যারাকপুর আদালতে মামলা করেন সোনালীদেবী। আদালত বীজপুর থানাকে নির্দেশ দেয়, সোনালীদেবীর অভিযোগকে FIR হিসেবে ট্রিট করতে হবে। রিপোর্টও জমা করতে হবে দ্রুত। সেই মোতাবেক তদন্ত শুরু করে পুলিশ। যদিও কিছুদিন পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। আদালতে নাকি রিপোর্টও জমা করেনি বীজপুর পুলিশ।

এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান মৃণালবাবু। গতবছর সোনালীদেবী তৃণমূলে যোগদান করেন। গতবছর শেষের দিকে তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগ দেন মুকুল রায়। এরপর ফের একবার মামলাটি নিয়ে উঠেপড়ে লাগেন সোনালীদেবী। চলতি বছর ৯ জানুয়ারি ব্যারাকপুর আদালতে করা মামলাটি রি-ওপেন করার আবেদন জানান। বিচারক বীজপুর থানাকে অবিলম্বে FIR রুজু করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩০৪, ৩২৫ এবং ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু করে বীজপুর পুলিশ। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় ২৫ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন মুকুল রায়।

এই মামলার প্রথম শুনানি হয় ৩০ জানুয়ারি। সেদিন মুকুল রায়ের আইনজীবী আশিস সান্যাল বলেছিলেন, “এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগদান করেছেন। তাই তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। মৃণালবাবু মারা গিয়েছেন প্রায় ৩ বছর আগে। তাহলে এতদিন কেন অভিযোগ করেননি।” এনিয়ে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনেরাল (AAG) অভ্রতোষ মজুমদার বলেন, “পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালতে অভিযোগ করার পর পুলিশ অভিযোগ নেয়। তাই দেরি হয়েছে।” হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি অ্যাডভোকেট জেনেরালের কাছে মৃণালবাবুর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চান। এছাড়া তিনি ডেথ সার্টিফিকেটও দেখতে চান। সেদিনও আদালতে নথি পেশ করতে পারেননি AAG। তাই আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি (আজ) পর্যন্ত মুকুল রায়কে এই মামলায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না পুলিশ। আজই তদন্তের সমস্ত রিপোর্ট এবং ডেথ সর্টিফিকেট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও আজ এই সব তথ্য জমা দিতে পারেনি রাজ্য। তাই, হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যাবে না মুকুল রায়কে।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ব্যবসা-বাণিজ্য

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  MAJOR CITIES