• A
  • A
  • A
বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা, হাইকোর্টের নির্দেশে মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলেন স্বামী

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি : বিয়ের পরদিন থেকেই সন্দেহ শুরু হয়েছিল। বাসর রাতে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সন্দেহ আরও বাড়ে স্বামীর। পরদিন ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায় নববধূ বিয়ের আগে থেকেই অন্তঃস্বত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয় নববধূ। তারপর স্বামীর বিরূদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে, যে ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা হয়েছিল তারা রিপোর্টের কপি না দেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী। আজ বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নির্দেশে স্বামীর হাতে রিপোর্টের কপি তুলে দিয়েছে ক্লিনিক।

শুনুন মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য


২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বাসিন্দা ব্যাংককর্মী দেবাশিস রায়ের (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে বিয়ে হয় বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা সঙ্গীতা সাঁতরার (নাম পরিবর্তিত)। পরদিন বাপের বাড়ি থেকে ফেরার পথে গাড়িতে বমি করে সঙ্গীতা। তখনই সন্দেহ হয় দেবাশিসের। ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বউভাতের অনুষ্ঠান। বাসর রাতে ফের নববধূ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসব দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে দেবাশিসের। পরদিন সকালে এক চিকিৎসকের পরামর্শে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সঙ্গীতার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান দেবাশিসবাবু। বিকালে রিপোর্ট হাতে পেয়েই চমকে উঠেন তিনি। দেখেন বিয়ের আগে থেকেই তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি সঙ্গীতার বাড়ির লোকদের জানান দেবাশিস। কিন্তু তারা অভিযোগ অস্বীকার করে উলটে দেবাশিসকে ভয় দেখায়। গোটা ঘটনা জানাজানি হতেই ৬ ফেব্রুয়ারি টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি ও প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ে সঙ্গীতা। পরে দেবাশিস ও তাঁর পরিবারের বিরূদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে বধূ নির্যাতনের মামলা করে।


এই মেডিকেল রিপোর্ট পেতেই মামলা দায়ের হয়
এরপর যে ক্লিনিকে সঙ্গীতার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করানো হয়েছিল সেখানে যোগাযোগ করে রিপোর্টের কপি চান দেবাশিস। কিন্তু তারা কপি দিতে অস্বীকার করে। তারা দাবি করে, সঙ্গীতার প্রেগন্যান্সি টেস্ট তাদের সেন্টারে হয়নি। ক্ষুব্ধ দেবাশিস বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরে ও ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু সেখানেও কোনও সুরাহা হয়নি। এরপর রিপোর্টের কপি পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দেবাশিসবাবু। গতকাল সেই মামলার প্রথম শুনানি ছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে।

বিচারপতি দেবাশিসবাবুর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরির কাছে জানতে চান, কোনও মহিলার স্বামীর এই রিপোর্ট পাওয়ার অধিকার আছে কি না? উত্তরে আইনজীবী জানান, ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্য এই রিপোর্ট পেতে পারে। কোনও সংস্থা তা দিতে বাধ্য। এরপরই বিচারপতি ওই ক্লিনিকের তরফে আদালতে হাজির আইনজীবীকে ভৎর্সনা করে বলেন, “আইন থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হবে কেন?” বিচারপতি আজ রিপোর্টের কপি নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন ক্লিনিকের আইনজীবীকে।

নির্দেশ মতো আজ ক্লিনিকের আইনজীবী দেবাশিসবাবুর আইনজীবীর হাতে রিপোর্টের কপি তুলে দেন। বিচারপতি রেগুলেটরি কমিশনকে দেবাশিসবাবুর দায়ের করা অভিযোগের অবিলম্বে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES