• A
  • A
  • A
সাংবাদিক হেনস্থায় কঠোর শাস্তি দাবি পার্থ, সেলিমের; ঘটনা নিন্দনীয়, বললেন দিলীপরা

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি : সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় হিন্দু সংহতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব তৃণমূল, CPI(M)। ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা নিন্দনীয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন BJP নেতারাও।

ভিডিওয় শুনুন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য


আজ পার্থবাবু বলেন, “হিন্দু সংহতির নামে যে বিশ্ঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হয়েছে তাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করি। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। তাঁদের উপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। এই ঘটনা কোনও মতেই বরদাস্ত করা উচিত নয়। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ এই আচরণ মেনে নেবে না। সংঘ পরিবার, BJP, হিন্দু সংহতির মতো যারা সমাজকে অসংহতির কথা বেশি করে বলছে, তাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপ্রিয় অসাম্প্রদায়িক শক্তি একত্রিত হয়ে মোকাবিলা করা উচিত। যারা আজ এই কাণ্ড ঘটাল তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি দাবি করি। কলকাতার রাজপথে ধর্মের নামে ধর্মান্তরণ কর্মসূচি নেওয়া এককথায় অসাংবিধানিক কাজ। যা ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা এধরনের কাজকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করি।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যকে অশান্ত করবার চেষ্টা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন বাংলা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তখন উন্নয়নকে ব্যাহত করার প্রচেষ্টা হচ্ছে। এবং জনভিত্তি পাচ্ছে না বলে সংবাদে উঠে আসার চেষ্টা করছে।”


এবিষয়ে CPI(M) সাংসদ মহম্মদ সেলিম বিবৃতি দিয়ে বলেন, “সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করি। ওরা হিন্দু ধর্ম ও সংহতির জন্য কিছু করছে না। বরং বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাংলার যুবসমাজকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মানুষের মধ্যে ঘৃণার সঞ্চার ঘটাচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন, কঠোর ব্যবস্থা নিক তারা। দুর্ভাগ্যবশত তৃণমূলের আমলে হিন্দু সংহতি গ্রুপ বেড়েছে। ওরা তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী ও সংঘ পরিবারের মিলিত জঙ্গি সংগঠন।”

সাংবাদিক হেনস্থার প্রতিবাদ জানিয়েছেন BJP রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ। আমার পছন্দ হতে পারে নাও হতে পারে। কিন্তু, কোনও সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ, নিগ্রহ মেনে নেওয়া যায় না।” এদিকে, আর এক BJP নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “গোটা ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা সমর্থন করি না। BJP-র কোনও মিটিং-মিছিলে এইসব ঘটনা ঘটে না।” তবে ধর্মান্তরণে কোনও দোষ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। সায়ন্তনবাবুর কথায়, “আইন মেনে ধর্মান্তরণ হলে অপরাধ কী আছে ? কেউ যদি স্বধর্মে ফিরে আসেন, তাহলে তো আমাদের সকলের স্বাগত জানানো উচিত। প্রশ্ন হচ্ছে, আইন মেনে হচ্ছে নাকি আইন ভেঙে হচ্ছে। আইন মেনে হলে স্বাগত জানানো উচিত।”

আজ রানি রাসমণি রোডে সমাবেশ ছিল হিন্দু সংহতির। সেখানে শিয়ালদা স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ড.শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি টার্মিনাস রাখার দাবি তোলা হয়। এরপর ওই মঞ্চে একই পরিবারের ১৪ জনের ধর্মান্তরণ করা হয়। পরে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন ধর্মান্তিরতরা। নিচেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংবাদিকরা। তাঁরা প্রশ্ন করতে শুরু করলে হিন্দু সংহতি কর্মীরা প্রথমে বাধা দেন। পরে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়। এক সাংবাদিকদের কপাল ফেটে যায়। ভাঙে চশমা। পরে অবশ্য পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। গ্রেপ্তার করা হয় হিন্দু সংহতির আহ্বায়ক তপন ঘোষ সহ চারজনকে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর : মঞ্চেই ধর্মান্তরণ, সাংবাদিকদের মার হিন্দু সংহতি কর্মীদের; গ্রেপ্তার তপন ঘোষ

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ব্যবসা-বাণিজ্য

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  MAJOR CITIES