• A
  • A
  • A
পুলিশকে জুতো মারার হুমকি, বিনিময়ে ফুলের তোড়া পেল পরিবার

রায়গঞ্জ, ১৪ ফেব্রুয়ারি : “জুতিয়ে লাল করা উচিত পুলিশকে।” “মালগুলোকে লাথাতে হবে।” দুর্ঘটনায় ছাত্রমৃত্যুর জেরে পুলিশ অফিসার বদলি নিয়ে ফেসবুকে কমেন্ট করেছিল ওরা। পুলিশের চোখে পড়ে। পালটা প্রতিক্রিয়াও হয়। না, তর্জন-গর্জন নয়। গ্রেপ্তারও নয়। সোজা বাড়ি গিয়ে তাদের হাতে ফুল-মিষ্টি তুলে দিয়ে এল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। অনেকে এটাকে ব্যঙ্গের চোখে দেখছেন। অনেকে আবার বলছেন, পুলিশ তো উচিত কাজ করেছে। ওরাও মানুষ। ওদেরও ঘর-সংসার আছে। অপমান শুধু ওরাই বা শুনবে কেন ? পুলিশ বলছে, আমরাও ক্ষমাপ্রার্থী। বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে, পুলিশকর্মীদের কথাও ভেবে দেখা উচিত।

ফুলের তোড়া ও মিষ্টি তুলে দেওয়া হচ্ছে বুবুলের পরিবারের হাতে


শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক ছাত্রের। এছাড়া সেদিন আরও বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে। পুলিশ কিয়স্ক ভাঙচুর করা হয়। দুর্ঘটনায় ছাত্রমৃত্যুর জেরে পরদিনই বদলি করা হয় রায়গঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ট্র্যাফিক অফিসার জামালউদ্দিন আহমেদকে। তাঁর জায়গায় আনা হয় চোপড়া থানার পুলিশ অফিসার পিনাকি সরকারকে।


এই সংক্রান্ত আরও খবর : উত্তর দিনাজপুরে দুর্ঘটনায় মৃত ২ ছাত্র, বিক্ষোভ থামাতে শূন্যে গুলি

এই ইস্যুতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করে এক ব্যক্তি। তার পোস্টে কমেন্ট করে বুবুল চক্রবর্তী ও শঙ্কর রায়। বুবুল লেখে, “বদল করে কিছু হবে না। মালগুলোকে লাথাতে হবে।” শঙ্কর লেখে, “অপদার্থ পুলিশকে জুতিয়ে লাল করা উচিত।” এই কমেন্ট দুটি চোখে পড়ে পুলিশের। আজ বুবুলের উকিলপাড়ার বাড়ি যান পুলিশ আধিকারিকরা। নিয়ে যাওয়া হয়, ফুল, মিষ্টি, টেডি বিয়ার। সকাল সকাল পুলিশ দেখে চমকে যান বুবুলের স্ত্রী। আরও চমকে যান ফুল, মিষ্টি দেখে। পুলিশ আধিকারিক সন্দীপ চক্রবর্তী বুবুলের স্ত্রীকে গোটা ঘটনার কথা বলেন। তিনি জানান, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা বেদনাদায়ক। তাঁরাও মর্মাহত। প্রশ্ন করেন, “আপনার স্বামীর এই ধরনের কমেন্ট কি সমর্থনযোগ্য ?” কোনও উত্তর দিতে পারেননি বুবুলের স্ত্রী। এরপর ব্যান্ড বাজিয়ে তাঁর হাতে টেডি বিয়ার তুলে দেওয়া হয়। বাড়িতে ছিল বুবুলও। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুল।


দু'জনের ফেসবুক কমেন্ট


পুলিশের গান্ধিগিরি অবশ্য ভালোভাবে নেয়নি বুবুলের পরিবার। পুলিশ আধিকারিকরা শঙ্করের কসবার বাড়ি দিকে রওনা দেওয়ার পর বুবুল বলে, “ফেসবুক তো ওপেন ফোরাম। আমি তো কমেন্ট করতেই পারি। আমি তো মতামত ব্যক্ত করতেই পারি। কেন এরকম দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে এই প্রশ্ন করেছিলাম। পুলিশ বলল, ওরাও নাকি ক্ষমাপ্রার্থী। গণতান্ত্রিক দেশে আমি তো আমার মতামত ব্যক্ত করেছিলাম। পুলিশকে আর একটু তৎপর হওয়ার কথা বলেছিলাম। ২০১১ সাল থেকে রায়গঞ্জে দুর্ঘটনা ঘটছে। এটা কমাতে হবে। কিন্তু, আমার বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা হচ্ছে।” বুবুলের প্রতিবেশী সুদীপ্তা সাহা বলেন, “পুলিশের এই ভূমিকাকে ভালো চোখে দেখছি না। ব্যঙ্গ করতেই এই কাজ। ঠিক হয়নি।” ক্ষুব্ধ স্থানীয় কাউন্সিলর বিমলজ্যোতি সিনহাও। তিনি বলেন, “বুবুলের সম্মানহানী হয়েছে। এবিষয়ে পৌরপিতাকে জানাব।”

তবে, পুলিশের পক্ষেও কথা বলেছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের মতে, “কমেন্ট অন্যভাবেও করা যেত। পুলিশ বিরোধী কথা আমরা সবসময় বলে থাকি। আদতে পুলিশের কি সবসময় দোষ থাকে ? কেউ ধাক্কা মারলে পুলিশের দোষ, কেউ হেলমেটহীন হয়ে গাড়ি চালালে পুলিশের দোষ ? আসলে আমরা নিজেরা সাবধানতা অবলম্বন করি না। তাই, যত দোষ পুলিশের ঘাড়ে চাপাতেই ভালোবাসি। বাকস্বাধীনতা আছে মানেই “পুলিশকে জুতো মারতে হবে”-র মতো কথা বলা কি ঠিক ? পুলিশ বিরোধিতা ভালো। কিন্তু, সবকাজে বিরোধিতা উচিত নয়।” গোটা বিষয় নিয়ে রায়গঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলছেন, “আপনারাই বিচার করুন, আমরা ঠিক করেছি না ভুল। কারোর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। কাউকে অপমান করিনি। শুধু ওদের ভুলটা তুলে ধরেছিলাম।”

এই সংক্রান্ত আরও খবর : ছাত্রমৃত্যুর জের, সরানো হল ট্র্যাফিক অফিসারকে

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ব্যবসা-বাণিজ্য

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  MAJOR CITIES