• A
  • A
  • A
বারাণসী ঘাট... ৩,৫০০ বছরের জলজ্যান্ত ইতিহাস!

যুগযুগ ধরে গঙ্গার পাড়ে গড়ে উঠেছে বহু জনপদ। তারই একটি নিদর্শন বেনারস বা বারাণসী। প্রায় ১০০টি ঘাট রয়েছে মা গঙ্গার পাড় ঘেঁষে। তারমধ্যে মূল ঘাট ২৫টি। অস্যি ঘাট থেকে শুরু করে রাজ ঘাট পর্যন্ত বিস্তারিত এলাকায় ভক্ত ও পর্যটক সমাগম সারা বছরই লক্ষ্য করা যায়। বেড়াতে যেতে চাইলে দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে নৌকা বিহার শুরু করতে পারেন। যাত্রা শেষ হরিশচন্দ্র ঘাটে পৌঁছে। আর যদি নৌকায় উঠতে না চান, পায়ে হেঁটেও পরিদর্শন করতে পারেন বারাণসীর শোভা। ঘাটে পেয়ে যাবেন টুরিস্ট গাইডদেরও। তাঁদের মুখেও শুনতে পারেন বারাণসীর রোমাঞ্চকর গল্প।


যুগ যুগ ধরে সন্নাস্যীদের ভিড় বারাণসীতে


বারাণসীর দক্ষিণপ্রান্তে অস্যি ঘাট। সেখানেই মা গঙ্গার সঙ্গে মিশেছে অস্যি নদী। একেবারে দক্ষিণে অবস্থানের কারণে লোকজন খুব একটা যায় না সেখানে। ফলত তেমন ভিড় নেই। শান্ত, নিরিবিলি ঘাট একান্তে সময় কাটানোর আদর্শ লোকেশন। যদিও হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে এই ঘাটের বিশেষ প্রাধান্য আছে। বারাণসীতে এসে শিবের পুজো করার আগে ভক্তরা এই ঘাটে স্নান করেন।

১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বারাণসী পরিদর্শনে আসেন ইংল্যান্ডের মহারানি কুইন এলিজ়াবেথ

ঘাটের কাছে একটি পিপুল গাছের নিচে রয়েছে শিবের লিঙ্গ। স্নান সেরে ভক্তরা সেই লিঙ্গের উপাসনা করেন। এছাড়া, ঘাটে রয়েছে কিছু জিনিসপত্রের দোকান ও খাবারদাবারের স্টল। যদি বারাণসীতে বেশিদিন থাকার পরিকল্পনা থাকে, এই ঘাটের আশপাশের হোটেল কিংবা গেস্ট হাউজ়ে বুকিং করে নিতে পারেন। এই ঘাট থেকে দশাশ্বমেদ ঘাটের দূরত্ব পায়ে হাঁটলে মাত্র ৩০ মিনিট।


ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে এই ঘাটের। ১৮ শতাব্দীতে এই ঘাটেই ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন বারাণসীর তৎকালীন মহারাজা চেত সিং। যুদ্ধের আগে ঘাটে একটি ছোট্ট দুর্গ বানিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শেষরক্ষা করতে পারেননি। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বন্দী হন। যদিও কিছুদিনের মাথায় ছদ্মবেশ ধারণ করে মাথায় পাগড়ি পরে জেল থেকে পালিয়ে যান।

পুরোনোদিনের দশাশ্বমেধ ঘাট

বারাণসীর ঘাটের ফোটো তুলতে চাইলে বেছে নিন এই ঘাটকে। ফোটোগ্রাফারদের মতে, বারাণসীর সবচেয়ে ফোটোজেনিক ঘাট দ্বারভাঙ্গা। খুব সুন্দর এর শোভা। বহু সিনেমার শুটিং হয়েছে। দ্বারভাঙ্গা ঘাটের নির্মাণশৈলি মনমুদ্ধকর। ১৯০০ সালে বিহারের রাজপরিবার এখানে একটি মহল তৈরি করে, যার পর থেকে ঘাটের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়।

দ্বারভাঙ্গা ঘাট

দ্বারভাঙ্গা ঘাটের পাশেই রয়েছে মুন্সি ঘাট। ১৯১২ সালে দ্বারভাঙ্গা রাজ্যের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শ্রীধর নারায়ণ মুন্সি নির্মাণ করেন ঘাটটি। তাঁর নামেই নামকরণ হয় ঘাটের।

দশাশ্বমেধ ঘাট

বারাণসী ঘাটের হৃদপিণ্ড দশাশ্বমেধ ঘাট। সবচেয়ে পুরোনো ও সবচেয়ে আর্কষণীয় স্থান। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে এই ঘাট পবিত্র। এখানকার মূল আকর্ষণ গঙ্গা আরতি। শুধু আরতি দেখবে বলে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ভিড় করে দশাশ্বমেধ ঘাটে। প্রতিদিন সন্ধে হওয়ার পর গঙ্গা আরতি শুরু হয় ভারতের মূলত তিনটি জায়গায় - হরিদ্বার, ঋষিকেশ ও বারাণসীতে।

দশাশ্বমেধ ঘাটের সন্ধ্যারতি

নদীর দিকে মুখ করে সংগীত সহযোগে আরতি হয়। বড় বড় প্রদীপ জ্বালিয়ে ৮-১০জন পণ্ডিত আরতি করেন সেখানে। সে দৃশ্য চাক্ষুস না করলে মুখে বলে প্রকাশ করা কঠিন। আরতি শেষে সকল ভক্ত করজোড়ে প্রণাম করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, ঝড়-জল বা প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও সন্ধ্যারতি স্থগিত হয় না কোনও সময়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে বসে কাটিয়ে দিলেও কখনও ক্লান্তি আসে না। এমনই তার স্থানমাহাত্ম্য।

ঘাটে কিশোরদের উচ্ছ্বাস

বারাণসীর আরও একটি প্রাচীন ঘাট মানমন্দির। রাজপুত স্থাপত্যের জন্য ঘাটটি বিখ্যাত। জয়পুরের রাজপুত রাজা মানসিং ১৬০০ শতকে নির্মাণ করেন সেই ঘাট। তারপর ১৭৩০ সালে সাওয়াই জয় সিং (দ্বিতীয়) সেখানে একটি অবজ়ার্ভেটরি তৈরি করেন। আজও গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি জানার টেলিস্কোপটি সঠিকভাবে কাজ করে চলেছে।

স্কিন্দিয়া ঘাটের মন্দির

বারাণসী ঘাটগুলির আরও একটি সুন্দর ঘাট স্কিনদিয়া। নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশ। স্কিনদিয়ায় রয়েছে অর্ধ নিমজ্জিত শিবের মূর্তি। ১৮৩০ সালে ঘাট নির্মাণের সময় মূর্তিটি জলে অর্ধেক ডুবে যায়। সেই থেকে মূর্তিটি অর্ধেক ডুবেই রয়েছে। এছাড়াও এই ঘাটে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোটো ছোটো মন্দির। জায়গাটিকে বলা হয় “সিদ্ধক্ষেত্র”।

ধ্যানে মগ্ন সন্ন্যাসী

১৭৮০ সালে নাগপুরের মারাঠি রাজা ভোঁসলে বারাণসীতে একটি ঘাট তৈরি করেন। সেই থেকে ঘাটের নাম হয় ভোঁসলে ঘাট। ঘাটে রয়েছে পাথরের বহুতল, যার উপরে তাকালে লক্ষ্য করা যায় ছোটো ছোটো জানালা। রয়েছে তিনটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির - লক্ষ্মীনারায়ণ, ইয়ামেশ্বর ও ইয়ামাদীতা মন্দির।

মণিকর্ণিকা ঘাট

দশাশ্বমেধ ঘাটের মতো আরও একটি ঘাটের নাম জনপ্রিয় - মণিকর্ণিকা ঘাট। এটি আসলে শ্মশান। বারাণসীর অধিকাংশ সৎকার এই ঘাটেই হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের বিশ্বাস, এই ঘাটে সৎকার হলে জন্মান্তরের চক্র থেকে আত্মা মুক্তি লাভ করে। সব দোষ মুছে যায়।

আজও পাপ ধুতে ভক্ত সমাগম হয় বারাণসীতে

বারাণসী বেড়ানোর খুঁটিনাটি :
  • যাবেন কীভাবে? প্লেন, ট্রেন, বাস বা গাড়ি যেকোনও ভাবেই পৌঁছে যেতে পারেন বারাণসী।
  • থাকবেন কোথায়? বারাণসীতে রয়েছে একাধিক বাজেট হোটেল, সস্তার হোটেল, ৩ স্টার হোটেল, ৪ স্টার হোটেল ও ৫ স্টার হোটেল। রয়েছে ধর্মশালা, আশ্রম ও গেস্ট হাউজ়।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  পুজোর খবর

  MAJOR CITIES