• A
  • A
  • A
দেবভূমি দেওঘর

হর হর মহাদেব... শব্দব্রহ্ম। গগনভেদী আত্মিক ডাক। হয়ত বা কণ্ঠস্বর কৈলাসে পৌঁছে দেওয়ার কাতর চেষ্টা। দূর থেকে আসা শিবধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল দিগ্বিদিকে। মনের চঞ্চলতা বাড়িয়ে দিচ্ছিল বহুগুণ।

শিবালয় বৈদ্যনাথধাম


বৈদ্যনাথধাম দর্শনের ইচ্ছেয় মন মুসাফির হয়েছিল বহুদিন
ধরেই। ছুটি, সংসারব্রতের মরিয়া তপস্যা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। ফুরসৎ মিলল একদিন। এক শ্রাবণের শিবমাসে। একাকী।


জসিডি থেকে ট্রেকারে প্রায় বাদুড়ঝোলা হয়ে পৌঁছনো গেল দেওঘর। স্বভাবরুক্ষ দেবভূম তখন বর্ষণসিক্ত। সবুজের স্পন্দনে জেগে ওঠা তীর্থক্ষেত্র। লাল মোরামের বুক চিরে চলে যাওয়া কালো পথটা পৌঁছে দেবে কাঙ্খিত ধামে।

দেওঘরের রামকৃষ্ণ মিশন
হোটেলের স্নান সেরে বেরিয়ে পড়া। সেদিন রবিবার। দূরদূরান্ত থেকে আসা শিবভক্তদের ঢল নামছে একটু একটু করে। পুণ্যপ্রাপ্তির আশায় নির্মিত জলসত্রে কাঁধে বাঁক নিয়ে আসা ভক্তদের ভিড়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার থেকে শুরু করে বিচিত্র ভারতের রঙিন জনতার রঙিন কোলাজ। ভাষার বৈচিত্র্য থাকলেও একটা জায়গায় সবাই এক।

...হর হর মহাদেব...

মাঝরাতে বেরিয়ে পড়তে হল। মাহেন্দ্রক্ষণে মহাদেবকে তুষ্ট করার মানস। মিশে গেলাম শিবভক্তের সমুদ্রে। অন্তর থেকে আনমনেই বেরিয়ে এল.. ভোলে বাবা পার করেগা...।
মিথ বলে কৈলাস থেকে শিবকে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পথে দেবতাদের ছলনায় এখানেই নামিয়ে রাখেন রাবণ। দেবতাও অনড় হয়ে যান। লঙ্কায় রাবণালয়ে আর যাওয়া হয়নি মহাদেবের। এখানেই প্রতিষ্ঠিত হন দেবতা। মন্দির চত্ত্বরে শিব ছাড়াও জয়দুর্গা, অন্নপূর্ণা, কেদারনাথ, ইন্দ্রেশ্বর, মহাকাল প্রভৃতি নানা দেবদেবীর মন্দির রয়েছে। কথিত আছে বৈদ্যনাথধামে সতীর হৃদয় পড়ে। তাই এটিকে ৫১ পীঠের মধ্যেও গণ্য করা হয়।

পুরান আর মিথের মিশেল ফিরছিল মানুষের মুখে মুখে। সর্পিল শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইনটা এগোচ্ছিল শ্লথ গতিতে। না, বিরক্ত হচ্ছিলেন না কেউই। কৃচ্ছসাধন না করলে কী আর কেষ্ট....থুড়ি শিব দর্শন হয়...।

আপন সময়েই পুব আকাশ রক্ত রঙিন হল। মহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। হর হর মহাদেব......।
সামান্য বেলপাতা আর গঙ্গার জল। আমার পুজোর উপকরণ। অর্ঘ্য অন্তরের আকুতি। মন্ত্র পুজো গ্রহণের আহ্বান।
চঞ্চল মন শান্ত হয়।
দেওঘরের বিখ্যাত পরোটা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। গন্তব্য তপোবন, নওলাক্ষি মন্দির, কুণ্ডেশ্বরী মন্দির, ত্রিকূট পাহাড়। তপোবনে হনুমানজির কড়ি আঙুলে কাটা পাথরে প্রণাম করলাম ভক্তিভরে। নওলাক্ষি মন্দির, কুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলাম ভক্তিভরে। পরে ঝাড়খন্ডের সর্বোচ্চ পাহাড় ত্রিকূটে চড়লাম রোপওয়েতে। প্রকৃতির রুপ-রস-গন্ধ উপভোগ করলাম তাড়িয়ে তাড়িয়ে।

ত্রিকূট পাহাড় পরের দিন শিমুলতলা। সাঁওতাল পরগণার যেসব অঞ্চল একসময় বাঙালির স্বাস্থ্যোদ্ধারের ঠিকানা ছিল তারমধ্যে শিমুলতলা অন্যতম। আজ সবই অতীত। পাহাড়ি টিলা ঘেরা মহুলবনে ঢাকা এই ছোট্ট শহরের জলহাওয়া এখনও খুবই স্বাস্থ্যকর। গাছপালায় ছাওয়া লাট্টুপাহাড় আজও চৌম্বকীয় টান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হলদি ঝোড়া আজও বর্ষায় কথা বলে।

ফেরার পথে দেওঘরের বিখ্যাত পেঁড়া নিলাম। ফিরতে হবে গার্হস্থ্যে।


যাওয়া - নিকটতম রেলস্টেশন জসিডি। সেখান থেকে ট্রেকারে দেওঘর।
থাকা - প্রচুর বেসরকারি হোটেল ও হলিডে হোম আছে দেওঘরে।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES