• A
  • A
  • A
লাগবে না পাসপোর্ট, ঘুরে আসুন ড্রাগনের দেশে

পাহাড়ে ঘেরা এই দেশ। পূর্ব হিমালয়ের কোলে মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে ওঠে বাড়িগুলো। তাদের পাহারা দেয় ড্রাগন। তবে সত্যিকারের ড্রাগন নয়। সে ড্রাগন আছে মানুষের কল্পনায়। ইতিহাস বলে ভুটান হল ড্রাগনের দেশ, দা ল্যান্ড অফ থান্ডার ড্রাগন। এদেশের সম্পদ আগলে রাখে থান্ডার ড্রাগন।

ছবি সৌজন্য : Pixabay


ভুটানের নাম শুনলে ঠিক বিদেশ বলে মনে হয় না। ছোটোবেলায় মনে হতো, এ আবার কেমন বিদেশে যেখানে যেতে পাসপোর্ট লাগে না ! সে যাই হোক, পাসপোর্ট না লাগলেও এই দেশের সৌন্দর্য কোথাও খাটো হয় না। প্রাচীন মন্দির, কাঠের ব্রিজ আর বৌদ্ধ মনাস্ট্রি আনাচাকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর যা আছে তা হল বরফে ঢাকা হিমালয়। তার গা বেয়ে বয়ে যায় সব পাহাড়ি খরস্রোতা নদী। বইয়ের পাতায় বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে এদেশ যেমন, বাস্তবে তা ঢের বেশি সুন্দর।


আমাদের রাজ্য থেকে খুব সহজেই উত্তরবঙ্গ দিয়ে চলে যাওয়া যায় ফুন্টশেলিং। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে রওনা থিম্পুর দিকে। পাহাড়ের আঁকবাঁক দিয়ে এগোতে এগোতে সময় যে কোথায় দিয়ে পেরিয়ে যাবে টের পাবেন না। প্রায় ঘণ্টা ছয়েকের রাস্তা থিম্পুর। বড় সাজানোগোছানো। হোটেলে পৌঁছে রাজধানী শহরটাকে দেখতে একটু সান্ধ্যভ্রমণ করলে দেখা যাবে চারদিকে আলোয় সাজানো। বৌদ্ধ মনাস্ট্রিগুলো থেকে ভেসে আসে ঘণ্টাধ্বনি। আসার পথে পাহাড়ে ঘেরা থিম্পু দেখে ইতিমধ্যেই আপনার মন ভরে গেছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রাতের থিম্পু অন্যরকম সুন্দর। শহরের পাশে দিয়ে বয়ে যায় থিম্পু নদী। কুলকুল জল বওয়ার শব্দ কানে আসে। রাতের আলোয় চারদিক যখন ঝকমক করছে তখন নদীর পাড়ে একটু সময় কাটালে মন অন্যরকম শান্তি খুঁজে পাবে।


ছবি সৌজন্যে Pixabay

দিনের আলোয় একবার দেখে আসতে পারেন মতিথাং তাকিং প্রিসার্ভ। এখানে দেখা পাবেন ভুটানের জাতীয় প্রাণী তাকিংদের। ভুটানের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল এক বুদ্ধমূর্তি। ১৬৯ মিটার লম্বা এই মূর্তি গোটা থিম্পু থেকেই চোখে পড়ে। মূর্তির নিচে রয়েছে একটি মনাস্ট্রি এবং তাকে ঘিরে আরও অনেক ছোটোখাটো বুদ্ধ মূর্তি। থিম্পুর আরও একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান মেমোরিয়াল চার্টন। ভুটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াংচুক বুদ্ধের চিন্তাভাবনা প্রচারের জন্য একটি বৌদ্ধস্তূপ নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি তা করে যেতে পারেননি। পরবর্তীকালে তাঁর স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে এই মেমোরিয়াল স্তূপ নির্মাণ করা হয়।

থিম্পুর পরের গন্তব্য হতে পারে পারো। এখানে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন তাকোগাং লাখাং ব্রিজ। পারো উপতক্যার এই লোহার ব্রিজ পারো নদীর উপর অবস্থিত। ঝুলন্ত লোহার ব্রিজের এপার থেকে ওপারে যাওয়া বেশ রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। এছাড়া পারো নদীর ওপর কাঠের ব্রিজও রয়েছে। একবার হেঁটে দেখতে পারেন সেখানেও। পারোয় গিয়ে তাক্তসাং মনাস্ট্রি না দেখে ফিরে আসবেন না। তিব্বতি এই শব্দের অর্থ বাঘের গুহা। ইংরাজিতে বলে Tigers Nest। কথিত আছে অষ্টম শতকে এক সন্ন্যাসী এই গুহায় বছরের পর বছর ধ্যান করেছিলেন। পরে তাঁর স্মৃতিতেই এই মনাস্ট্রি তৈরি করা হয়। পাহাড়ের গা বেয়ে এবড়োখেবড়ো সিঁড়ি ভেঙে মনাস্ট্রিতে উঠতে হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,১২০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।


ছবি সৌজন্য : Pixabay
এরপর যান পুনাখায়। থিম্পু থেকে পুনাখা যাওয়ার পথে রয়েছে ডচু-লা-পাস। একবার দেখে আসুন ভুটানের অন্যতম প্রাচীন মনাস্ট্রি চিমি লাখাং। এক লামা এসে এই মনাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশুর মঙ্গলকামনার জন্য পরিবারের লোকজন এখানে আসেন। এসব ছাড়াও ড্রাগনের দেশ জুড়ে রয়েছে অনেক গন্তব্য। সামনের ছুটি চলে যান এই প্রতিবেশী দেশে। আর মনভরে উপভোগ করে আসুন ড্রাগনের দেশের সৌন্দর্য।


ছবি সৌজন্য : Pixabay


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  পুজোর খবর

  MAJOR CITIES