• A
  • A
  • A
শপিং থেকে স্কুবা ডাইভিং, চুটিয়ে মজা মালয়েশিয়ায়

বেড়াতে যাওয়াটা নেশার মতো। একবার সে নেশায় বুঁদ হলে আপনাকে ঘরে বেঁধে রাখে, কার সাধ্যি। বছরে একবার অন্তত লোটা-কম্বল গুটিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়তেই হবে। শেষ বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল গতবছর অগাস্ট মাসে। হঠাৎ করে হয়েছিল সিমলা-মানালি যাওয়ার প্ল্যানটা। সফর শেষেই ভেবে নিয়েছিলাম পরের টার্গেট বিদেশ। কিন্তু কিছুতেই হয়ে উঠছিল না। গুছিয়ে পরিকল্পনা করেও নানা কারণে ভেস্তে যাচ্ছিল। তাই জানুয়ারি মাসের মাইনে ঢুকতেই কেটে ফেললাম টিকিট। ছ’দিন, পাঁচ রাত্রির প্যাকেজে চুটিয়ে ঘুরে নিলাম মালয়েশিয়া।

ছবি সৌজন্যে : Pixabay


জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। তাও আবার আবেগের বশে একাই যাব বলে ঠিক করে ফেলেছি। দিনটা যত এগিয়ে আসছিল, উত্তেজনা আর চিন্তা মিশিয়ে একটা অদ্ভুত ব্যপার হচ্ছিল মনের মধ্যে। যাই হোক, নির্ধারিত দিনে রওনা দিয়ে দিলাম দুগ্গা দুগ্গা বলে। কলকাতা থেকে ফ্লাইট। হঠাৎ পরিকল্পনার ফলে টিকিটের দাম একটু বেশি পড়েছিল। ২৩ হাজার টাকার কাছাকাছি। নন-স্টপ ফ্লাইট ছিল। চার ঘণ্টায় পৌঁছে গিয়েছিলাম কুয়ালালামপুর। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এসে শহরটা দেখে সব ভয়, চিন্তা কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেল। মন তখন উত্তেজনায় ফুটছে। দেশটা ঘুরে দেখার জন্য তর সইছে না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে দেখার পর মনে হল, এখানে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করলে চলবে না। হোটেল বুক করাই ছিল। সেখানেই আগে গেলাম।


মালয়েশিয়ার রাজধানী শহরে কলকাতার মতো ট্যাক্সির চল খুব একটা নেই। কারণ খরচটা এতে বড্ড বেশি হয়। সবথেকে চলতি ট্রান্সপোর্ট বাস। এছাড়া ট্রেনে চড়েও আরামে ঘুরে বেড়ানো যেতে পারে শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। নিতান্তই যদি ট্যাক্সিতে চড়তে হয় তবে দরাদরিতে না গিয়ে মিটারে যাওয়াই ভালো। সারাদিন শহরটা ঘুরে দেখার পর রাতের বেলায় আলো ঝলমলে টুইন টাওয়ার দেখার পর মেজাজটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যাবে।


ছবি সৌজন্যে : Pixabay

কুয়ালালামপুরের পরই যে জায়গা মন কাড়বে তা হল পেনাঙ্গ। দ্বীপে ঘেরা মালয়েশিয়ার এই স্টেটে রয়েছে জর্জটাউন শহর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। দুর্গ আর মিউজ়িয়ামে ভর্তি এ শহর ইতিহাসে ঘেরা। এখনও এখানকার রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেক প্রাচীন বাড়ি। কলকাতার মানুষদের আরও একটা কারণে বেশ পছন্দ হবে জর্জটাউন। এখানকার স্ট্রিটফুড বিখ্যাত।

স্কুবা ডাইভিং, স্নর্কলিং করতে হলে একবার ঢুঁ মেরে আসা যেতে পারে পারহেনশিয়ান দ্বীপে। এখানে বাজেটের মধ্যে উপভোগ করা যাবে ওয়াটার স্পোর্টস। এই দ্বীপে ভিড় বেশি থাকে জুলাই মাসে। শীতকাল তুলনামূলক ফাঁকাই থাকে। ইতিহাস আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন মালয়েশিয়ার শহর মেলাকা। ২০০৮ সালে এই শহরকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে UNESCO। শান্তিতে একটু সময় কাটাতে যাওয়া যেতে পারে মেলাকা। মালয়েশিয়ার সবথেকে প্রাচীন জাতীয় উদ্যান তামান নেগারা। এখানে পশু-পাখি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা ছাড়াও ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ছোটো নৌকা নিয়ে জঙ্গল ভ্রমণেও যাওয়া যেতে পারে।


ছবি সৌজন্যে : Pixabay
এছাড়া আরও কয়েককটি জায়গা রয়েছে, যেগুলো মালয়েশিয়া টুরের গাইডবুকে রাখা যেতে পারে। সবুজে মোড়ানো ক্যামেরন হাইল্যান্ডস। এখানে রয়েছে বিস্তৃত স্ট্রেবেরি বাগান। এখানকার আবহাওয়া অন্য জায়গাগুলোর থেকে একটু আলাদা। রাতের বেলা গায়ে রীতমতো সোয়েটার, জ্যাকেট চড়াতে হবে। সমুদ্র সৈকতের মজা নিতে যাওয়া যেতে পারে তিয়াম্যান দ্বীপে। টুরের শেষ অধ্যায়ে একবার যাওয়া যেতে পারে সেলানগোরে। মালয়েশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত শহর। আর হ্যাঁ, একদম ভোলা যাবে না সিঙ্গাপুর। দেশটা ঘুরে দেখার পর একরাত্রি হাতে থাক শুধু সিঙ্গাপুরের জন্য। পাব, ক্লাব, ককটেলে চুটিয়ে এনজন নাইটলাইফ। আর বাড়ির জন্য একগুচ্ছ শপিং। পরেরদিন সকালে, সিঙ্গাপুরে ছাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে উঠে পড়ুন কলকাতা ফেরার বিমানে।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES