• A
  • A
  • A
প্রকৃতির নির্জনতায় মধুমাখা নৈনিতাল

“ইয়ে শাম মস্তানি..মদহোশ কিয়ে যায়....”। রাজেশ খান্নার লিপে কিশোর কুমারের গাওয়া গানটা কতবার যে ঋজু শুনেছে ইয়ত্তা নেই। পিকচারাইজেশনটা ওর অনবদ্য লাগে। রাজেশ খান্না-আশা পারেখ জুটির রোমান্টিকতা তো আছেই। তবে ওর সবচেয়ে পছন্দ লোকেশনটা। পাহারের মাঝে পান্না সবুজ জলরাশি। মেঘ রোদ্দুরের লুকোচুরি। আর ঝাউবন।


কলেজে পড়ার সময় থেকেই ঋজুর মনে দানা বেধেছিল ইচ্ছেটা। “কাটি পতঙ্গ” ছবির রাজেশ খান্নার মতো ও রোমান্স করতে চায় ওই লেকটার ধারে। প্রেয়সীকে বোটে বসিয়ে ও শোনাতে চায় জীবনের কথা। ভালোলাগার কথা। ভালোবাসার কথা।
“কাটি পতঙ্গ”-এর লোকেশন যে নৈনিতাল, সেটা জানতে ওকে বেগ পেতে হয়নি। মনে মনে ঠিক করে ফেলে রাইকে নিয়ে ও হানিমুনে উত্তরাখণ্ডের শৈল শহরেই যাবে। হারিয়ে যাবে প্রকৃতির মাঝে। তালের জলে মেতে উঠবে জলকেলিতে। খুঁজে নেবে একমুঠো উষ্ণতা। বদ্ধ হবে জন্মান্তর পাশে থাকার অঙ্গিকারে।



তুষারশৃঙ্গ।
আসলে নৈনিতাল এমনই। কুমায়ুন হিমালয়ের রোম্যান্টিক গন্তব্য। হানিমুনের আদর্শ লোকেশন।
‘তাল’ মানে হ্রদ। তালের ধারে অধিষ্ঠাত্রী দেবী নয়না বা নৈনি থেকেই নৈনিতাল নামকরণ। একদিকে তাল্লিতাল, অন্যদিকে মাল্লিতাল। মাঝের দেড় কিলোমিটার ম্যাল। দুপাশে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে চিনার গাছের দল। স্নিগ্ধ হাওয়ায় মাথা দোলায় পপলার গাছের দল।

পান্না সবুজ নৈনিতাল।
প্রচলিত ধারণা সতীর নয়ন পড়েছিল এখানে। সেই স্থানেই গড়ে উঠেছে নয়নাদেবীর
মন্দির। ১৮২৪ সালে মোতিরাম শা বর্তমানের মন্দিরটি নির্মাণ করান। ১৮৮০ সালের ভয়াল ভূমিকম্পে ক্ষতি হয় মন্দিরের। ১৮৮৩ তে তা আবার নতুন করে তৈরি হয়।
দেবী নয়নার পুজো দিয়ে নতুন জীবনের শুরুয়াৎ। মন্দ কী?


নয়নাদেবীর মন্দির লেকের জলে জলকেলি, চিনার গাছের ফাঁকে সঙ্গীকে একান্তে খুঁজে নেওয়া। পাহাড়ের খাঁজে , নির্জনে একে অপরকে খুঁজে নেওয়া। তারপর রোপওয়েতে চড়ে বসা। ২,২৭০ মিটার উচ্চতায় স্নো-ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে দৃশ্যমান হয় হিমালয়ের তুষারধবল শৃঙ্গরাজি। হাতে হাত রেখে এখানে নির্বাক দর্শক হয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো একটা বেলা। নির্বাক অনুভূতিতেও বলা হয়ে যায় অনেক কথাই।
নৈনিতালের আশপাশেই রয়েছে অনেকগুলো ছোট বড় হ্রদ।২২ কিমি দূরে ভীমতাল।২১ কিমি দূরে সাততাল। ২৭ কিমি দূরে নওকুচিয়া তাল। ঘুরে নেওয়া যায় সবই।
নৈনিতাল থেকে ৫২কিমি দূরে কুমায়ুনের আর এক অপরূপ স্থান প্রাচীন শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মুক্তেশ্বর । এখান থেকে হিমালয়ের শোভা অসাধারণ।


নৈনিতাল থেকে ৬০কিমি দূরে ১,৮২৯মি উচ্চতায় রানিখেত । ওক, পাইন, সিডার, সাইপ্রাসে ঘেরা পাহাড়ি শহর । রানিখেত থেকে হিমালয়ের এক বিশাল রেঞ্জ দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ি সংসারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে নন্দাদেবী, কামেট, নীলকন্ঠ, হাতি পর্বত, গৌরী পর্বত, ত্রিশূল, নন্দাঘুন্টি, নন্দাকোট।রানিখেতকে জুড়ে দুই রানিকে ঘিরে আছে নানা গল্পকথা। একজন চাঁদবংশের রানি পদ্মাবতী। তিনি নাকি হিমালয়ের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে এখানে বসবাস শুরু করেন। অন্যজন রানি কলাবতী। তাঁর চাষাবাদের খেত থেকেই হয়ত নাম হয় রানিখেত। যাইহোক না কেন রানিদের ইতিকথা বুকে নিয়ে রানির মতই পাহাড়ের রানি রানিখেত।


রানিখেত থেকে রামনগরের দিকে ৮ কিমি গেলে তারিখেত। আবার আলমোড়াপথে ৩৭ কিমি দূরে কাঠপুরিয়া। সেখান থেকে আরও ১০ কিমি শীতলাখেত। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য ২১ কিমি দূরের তপোবন আদর্শ জায়গা। এছাড়া প্রাচীন মন্দিররাজির দ্বারাহাট অসাধারণ। দ্বারাহাট থেকে ১৫ কিমি গেলে ডুনাগিরি। প্রাচীন গল্পকথা বলে এটাই নাকি সঞ্জীবনীসন্ধানে আসা হনুমানের গন্ধমাদন পর্বতের টুকরো। ডুনাগিরি ওষধিবৃক্ষে সমৃদ্ধ।

মধুমাখা নৈনিতালে হানিমুন সেরে ফেরার পর ঋজু মুচকি হেসে বলেছিল, নতুন করে চিনলাম রাইকে। রাইয়ের চোখে তখন লাজুক হাসি।


কীভাবে যাবেন : নৈনিতালের নিকটতম রেলস্টেশন কাঠগোদাম। কাছের বিমানবন্দর পন্থনগর। সেখান থেকে গাড়িতে চলুন নৈনিতাল।
থাকা - কুমায়ুন মন্ডল বিকাশ নিগমের রেস্ট হাউস রয়েছে তাল্লিতাল, ভীমতাল, সাততাল, সুখতাল, নওকুচিয়াতাল ও কাঠগোদামে। নৈনিতাল জুড়েই রয়েছে বহু বেসরকারি হোটেল।



CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES