• A
  • A
  • A
অজ্ঞাতবাসের সময় শমী বৃক্ষের কোটরে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন পাণ্ডবরা ?

তিনদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ঘেরা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। ইতিহাসবিজড়িত এই জেলায় রয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। বড় না হলেও জেলা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। জেলায় পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকারও। জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প।


দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর, তপন, হরিরামপুর, কুশমণ্ডি ও বালুরঘাটে রয়েছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গঙ্গারামপুরের বানগর। গঙ্গারামপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বানগরের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। সড়কপথে গঙ্গারামপুর বাস স্ট্যান্ড এবং সেখান থেকে ছোটো গাড়ি করে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় বানগরে। এখানে আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কিছুদিন আগেও একবার খনন করা হয়। প্রাচীনকালের সাত যুগের নিদর্শন পাওয়া যায় সেখানে। সুড়ঙ্গ থেকে নানান নিদর্শন পাওয়া গেছে বানগরে। পাওয়া গেছে সেই সময়কার বিভিন্ন দেবদেবীর পাথরের মূর্তি। যা বর্তমানে জেলা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।



শমী বৃক্ষ

গঙ্গারামপুরেই রয়েছে পিরপাল। গঙ্গারামপুর বাস্ট স্ট্যান্ড থেকে মহারাজপুর হয়ে যাওয়া যায় পিরপালে। ছোটো গাড়ি করে যাওয়া যায় সেখানে। এখানে বখতিয়ার খলজির সমাধীস্থল রয়েছে। তাঁকে পিরপালে সমাধি দেওয়া হয়। কথিত আছে, তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য ওই গ্রামের মানুষ এখনও মাটিতে ঘুমান। পিরপাল ও বানগরে জেলা সহ বাইরের বহু পর্যটক ঘুরতে আসেন।



জেলার শেষ প্রান্ত হরিরামপুরের হাতিডুবা গ্রামে রয়েছে শমী বৃক্ষ। কথিত রয়েছে, মহাভারতের বিরাটপর্বে পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় ছদ্মবেশ নিতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্রগুলো যে বৃক্ষের কোটরে লুকিয়ে রেখেছিল সেই গাছটির নাম ছিল ‘শমী বৃক্ষ’। এই শমী বৃক্ষ সেই মহাভারতের যুগ থেকে এখনও বর্তমান। তাই এই শমী বৃক্ষস্থলও বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। শমী বৃক্ষের পাশে থাকা দিঘির চারপাশে তৈরি করা হয়েছে পর্যটকদের জন্য কটেজ। জেলার সদর শহর বালুরঘাট থেকে বাসে করে প্রথমে হরিরামপুর। সেখান থেকে ছোটো যে কোনও গাড়ি করে হাতিডুবা গ্রামে যাওয়া যায়। আবার কুশমণ্ডি যাওয়ার পথে নারায়ণপুর হাই স্কুলের পাশ দিয়েও যাওয়া যায় হাতিডুবা গ্রামে।

তপনে রয়েছে তপন দিঘি। তপন বাস স্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে এই দিঘিটি। প্রায় ৮৪ একর জায়গার উপর রয়েছে দিঘিটি। ৩ কিলোমিটার লম্বা এই দিঘির চারপাশে তৈরি হয়েছে বহু কটেজ। গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাট থেকে তপনে যাওয়া যায় খুব সহজেই।

কুশমণ্ডিতে রয়েছে মহিপাল দিঘি। যার চারপাশে রয়েছে একাধিক কটেজ। পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কটেজগুলি। বালুরঘাট থেকে বুনিয়াদপুরের অভিমুখে যেতে বংশীহারী থানার আগে ডানদিক দিয়ে খুব সহজেই মহিপাল এলাকায় যাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলি গড়ে তুলতে নজর দিয়েছে। ইতিমধ্যে বানগর, তপন, মহিপাল দিঘি সংস্কার ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES