• A
  • A
  • A
পৃথিবীর ব্যস্ততম সেতুর ইতিহাস এক নজরে

কলকাতার কথা উঠলে প্রথমেই যে চিত্রগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে রয়েছে হাওড়া ব্রিজ। হুগলি নদীর উপর অবস্থিত প্রকাণ্ড সেতুটি কলকাতা ও তার সংলগ্ন শহরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। ২০১৯ সালে ৭৫ বছরে পা দেবে এই ব্রিজ।



১৮৬২ সালের কথা। পরাধিন ভারতের ব্রিটিশ সরকার স্থির করল হুগলি নদীর উপর একটি ব্রিজ বানাবে। ইস্ট ইন্ডিয়া রেল কম্পানির চিফ ইঞ্জিনিয়রকে ডেকে পাঠানো হল। অনেকরকম পরিকল্পনা হল। আলোচনা হল। কিন্তু স্বপ্নের সেতু বানানোর মূল পাঠামো কিছুতেই স্বীকৃতি পেল না। শেষমেশ উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষ লগ্নে পৌঁছে হাওড়া ও কলকাতার মঝে যোগসূত্র তৈরি করে নির্মিত হল একটি ঝুলন্ত ব্রিজ (Pontoon bridge)।



কিন্তু দুটি ব্যস্ত শহরের অতিরিক্ত যানবাহনের ভাড় বওয়ার ক্ষমতা ছিল না সেই ব্রিজের। সামান্য কাশবৈশাখীতেও সেই ব্রিজ ভেঙে যেতে পারে, এই আশঙ্কা তৈরি হল সকলের মনে।


এর বিকল্প চিন্তা করতে শুরু করল তৎকালীন সরকার। দা ব্রেথওয়েট বার্ন ও জেশপ কন্সট্রাকশন কম্পানির হাতে ব্রিজ নির্মাণের চুক্তি দেওয়া হল। ব্রিজ নির্মাণ করেন তিনজন ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট রেন্ডেল, প্যালমার ও ট্রিটন।


১৯৩৬ সালে নির্মাণ শুরু হয় ব্রিজের। অনেক অপেক্ষার পর, স্বাধীনতার ঠিক ৪ বছর আগে, ১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নির্মিত হয় নতুন ব্রিজ। ব্রিজে প্রথম যে যানটি চালানো হয়, সেটি ছিল একটি সলিটারি ট্রাম। হাওড়া ব্রিজ পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহৎ ব্রিজ। নির্মাণের সময় সেটি ছিল পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ ব্রিজ।


নাট-বল্টু ছাড়াই শক্তপোক্ত ইস্পাতে তৈরি হয় হাওড়া ব্রিজ। নির্মাণ করতে লেগেছিল ২৬,৫০০ টন ইস্পাত। টাটা স্টিলের উৎপাদিত ইস্পাতেই তৈরি হয় এই ব্রিজ।


হাওড়া ব্রিজ লম্বায় ৭০৫ মিটার ও চওড়ায় ২১.৬ মিটার। দুটি ফুটপাথ রয়েছে দু'দিকে। কিন্তু হাওড়ার ব্রিজের খ্যাতি অন্য কারণে। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর ব্যস্ততম সেতু। প্রতিদিন ১ লাখের বেশি যান পারাপার করে ব্রিজ দিয়ে। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।


কলকাতা বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে এটি একটি দেখার মতো টুরিস্ট স্পট। সুতরাং, পর্যটকদেরও ভিড় থাকে ব্রিজে। বর্তমানকালে হাওড়া ব্রিজের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট।


১৯৬৫ সালে ব্রিজের আরও একটি নামকরণ হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে নাম দেওয়া হয় রবীন্দ্র সেতু। কিন্তু আজও সেই ব্রিজ হাওড়া ব্রিজ নামেই বেশি পরিচিত।


এই ব্রিজ অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। দেশভাগের টালমাটাল অবস্থায়, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা যখন চরমে, এই ব্রিজের সাহায্যেই পারাপার হয়েছিলেন বহু মানুষ। এই ফোটোটি তারই নিদর্শণ।


হাওড়া ব্রিজ নির্মাণের অনেকগুলি বছর পর হাওড়া ও কলকাতার মাঝে সংযোগ স্থাপন করার জন্য আরও একটি ব্রিজ তৈরি হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান জানিয়ে ব্রিজের নামকরণ হয় বিদ্যাসাগর সেতু। সেটিকে বলা হয় দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজ। ১৯৯৩ সালের ১০ অক্টোবর জনসাধারণের জন্যে খুলে দেওয়া হয় ব্রিজের গেট।


অনেক হিন্দি, মালায়ালাম, বাংলা, তামিল ছবির শুটিং হয়েছে এই ব্রিজে, যেমন - গুন্ডে, বরফি, পিকু, লাভ আজ কাল, তামিল ছবি আধাওয়ান, মালায়ালাম ছবি ক্যালকাটা নিউজ়, রোল্যান্ড জোফের ইংরেজি ছবি সিটি অফ জয়, ইত্যাদি।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES