• A
  • A
  • A
ভালোবাসার গ্যাংটক

-ধুশ, ভাল্লাগে না। কেন যে ফোনটা ধরেনা? কয়েকটা টিপস দেওয়ার ছিল। আর নো পাত্তা! আজকের দিনেও। অম্বরীশটা না একেবারে যা তা...

ছাঙ্গু লেক

অনুষ্কার কপট রাগ।

হয়তো চলে আসবে জিনস-টিশার্টেই। বাবা বলবে, ফচকে ছেলে। পোশাকটা একেবারেই না-পসন্দ বাবার। হামেশাই বলে সে কথা। অনেকদিনের চেষ্টায় বাবাকে রাজি করানো গেছে। বিকেলে আসবে ও।

মন বাঁধনহীন। উদ্দাম। সব ঠিক থাকলে আজই মিলবে ছাড়পত্র। স্বীকৃতি মিলবে ভালবাসার।


অনুষ্কার মনে পড়ে যায় সেই দিনটার কথা। যেদিন প্রোপোজ় করেছিল অম্বরীশ। অর্কিড রাজ্যে। গ্যাংটকের অর্কিডোরিয়ামে।




অর্কিড
সেটা ছিল কলেজ এক্সকারশন। ক্লাসের চুপচাপ ছেলেটা যে এভাবে প্রোপোজ় করতে পারে, ভাবা যায়নি।

-আমি তোর রডোডেনড্রন হতে চাই। রঙিন করতে চাই তোর দিনগুলো। আজীবন।

অনুষ্কার কান দুটো লাল হয়ে গেছিল সেদিন। মুখে রা কাটেনি।

সেদিন সারারাত ঘুমতে পারেনি ও। পরের দিন ছাঙ্গু লেকের ধারে কুয়াশামাখা আলো-আঁধারিতে অম্বরীশকে দেখে হেসেছিল শুধু। সম্মতির হাসি।

আজ ওর মনে পড়ে যায় সেই এক্সকারশনের খুঁটিনাটি সবকিছু। সেই দার্জিলিং মেল। সেই বাবার ছাড়তে যাওয়া। ট্রেনের গানের আসর...সবকিছু...

অম্বরীশও গেয়েছিল সেদিন। রূপম ইসলামের গাওয়া গানটা।
“শহরের উষ্ণতম দিনে, পিচ গলা রোদ্দুরে.... রডোডেনড্রন..তোমায় দিলাম আজ...”

অনুষ্কার চোখে ছিল মুগ্ধতা। সেটা যে কখন অম্বরীশ পড়ে ফেলেছিল, বোঝেনি। পরে বলেছে ও। অনুষ্কা নাকি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েছিল।

সকালে বাস। সেবক রোড। চোখের সামনে তিস্তা। অপূর্ব তার রূপ। পান্না সবুজ জলে মন ভালো করা রোমান্টিকতা। তিস্তা বাজার থেকে ডানহাতি পথ। পথ দেখায় তিস্তা। দুরে চলে ওয়াটার ফটিং। দুরন্ত অ্যাডভেঞ্চার।



লিংডাম মনেস্ট্রি

পাহাড়ি পথ অনুষ্কার ভীষণ প্রিয়। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি। পাইন বনের সোঁদা গন্ধ। দুটি পাতা একটি কুঁড়ির ল্যান্ডস্কেপ। প্রতি বাঁকের রহস্য...

সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক। উচ্চতা ৫,৫০০ ফুট। শহরের মাঝখানে হোটেল। ঝকঝকে চারপাশ। পরিচ্ছন্ন রাস্তা। এম. জি. মার্গকে ঘিরে দোকানপাট । বিকেলে বান্ধবীদের সঙ্গে বে়রিয়েছিল অনুষ্কা। এম. জি. মার্গে। শৈলেন স্যারের অনুমতি নিয়েই। শর্ত ছিল ফিরতে হবে ঘণ্টা খানেকেই।



এম. জি. মার্গ
সুন্দর শপিং কমপ্লেক্স। ঝাঁ চকচকে। পৃথিবীর প্রায় সব রইস ব্র্যান্ডের সগর্ব উপস্থিতি। রাস্তাটাও সুন্দর। সাজানো। নিয়ন উদ্ভাসিত।

পরের সকাল মোহময়। জানলার পরদা সরাতেই সব ঝকঝকে। সামনের পাহাড়টা যেন ডাকছে। ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়া। তিন কিমি দূরে। এনচে মনেস্ট্রি। চিনা প্যাগোডার অনুকরণে তৈরি । জানুয়ারি মাসে মুখোশ উৎসব ‘ছাম’ নাচে মাতেন মনেস্ট্রির লামারা। একটু এগোলে তাশি ভিউ পয়েন্ট। কাঞ্চনজঙ্ঘা আর মাউন্ট সিনিয়লচুর ভিউ পয়েন্ট। শ্বেতশুভ্র পাহাড়চূড়া। অসাধারণ।



তাশি ভিউ পয়েন্ট
রাজা তাশি নামগিয়াল গড়ে তোলেন নামগিয়াল ইনস্টিটিউট অব টিবেটোলজি। গ্যাংটক শহর থেকে ৩ কিমি দূরে। তিব্বতি বই আর তিব্বতীয় সংস্কৃতির নানা স্মারক নিয়ে অসাধারণ সংগ্রহশালা। তিব্বতি বইয়ের ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম।



নামগিয়াল ইনস্টিটিউট অব টিবেটোলজি
গ্যাংটকের ২৪ কি.মি. দূরে ঐতিহ্যময় রুমটেক মনেস্ট্রি। ১,৫৫০ মিটার উচ্চতায়। সিকিমের ধর্ম ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। যাত্রা পথটা অসাধারণ। অনুষ্কার আবছা মনে পড়ছে, বাসের ঠিক পেছনের সিটেই বসেছিল অম্বরীশ। কি যেন একটা গুনগুন করছিল।


রুমটেক মনেস্ট্রি
রাজা চতুর্থ চোগিয়ালের তৈরি মূল মনাস্ট্রিটি ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৬০ সালে নতুন মনেস্ট্রি তৈরি করা হয়। পাহাড়ের ঢালে একের পর এক গুম্ফা। সবুজের পটভূমি। ঝকঝক করছে সোনায়মোড়া চূড়া। আলো-আঁধারিতে ঢাকা শান্ত প্রার্থনাঘর। গেরুয়াবসন লামাদের চলাচল। অনবদ্য! স্বাদ হয় একবার মিলি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে। অম্বরীশ প্রেয়ার হুইল দেখছিল মন দিয়ে।

তারপর সেই অর্কিডোরিয়ামে। নানা প্রজাতির অর্কিড সহ ট্রপিকাল গাছগাছালির সমাহার। বোটানির বিদ্যুৎ স্যার ডিপার্টমেন্টের ছেলেমেয়েদের কীসব বোঝাচ্ছিলেন যেন। মনোপোডিয়াল...সিম্পোডিয়াল...।



অনুষ্কা তখন অর্কিডে ব্যস্ত। ডেনড্রোবিয়ামে মুগ্ধ। একা। এগিয়ে গেছে সবাই। একজন ছাড়া। অম্বরীশ যে কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল...।

সেখানেই প্রোপোজ। বদলে যাওয়া আগামীর শুরুয়াত।

বিকেলে গণেশ টক থেকে পাখির চোখে শহর দেখা। অনুষ্কার ওসব মনে নেই। বুক ধুকপুক। হৃদয় তোলপাড়। সলাজ চাহনি। ও বেশ বুঝতে পারছিল দুটো চোখ ওকে দেখে যাচ্ছে অনবরত।




রাত ঘুমহীন। তারারাও চুপ। মন উথাল-পাতাল। ইচ্ছে করছিল ১০২ নম্বর ঘরটায় যেতে। অম্বরীশের রুম নম্বর। ও নিশ্চই ঘুমায়নি। ইস্, যদি ওর বুকে মাথা রেখে...।

সকালে ছাঙ্গুর ভয়ংকর সুন্দর পথ। পথে নাম না-জানা ঝরণা। ডাইনে অতল খাদ। এ পথে রহস্য নেই। রোমাঞ্চ আছে। আছে হাড়হিম করা মুহূর্ত।

১২,৩১৩ ফুট উচ্চতায় ছাঙ্গু লেক। কুয়াশামোড়া। বরফ ছিল না তখন। অনুষ্কা খুঁজে নিয়েছিল নির্জনতা। ছুঁড়ে দিয়েছিল হাসি। সম্মতির হাসি।




ছাঙ্গু লেক থেকে আরও ওপরে বাবা মন্দির। প্রয়াত হরভজন সিংহের রহস্য মিথ। আরও ওপরে নাথুলা পাস। চিন বর্ডার। বরফশুভ্র।

সন্ধেয় এসেছিল অম্বরীশ। শার্ট-প্যান্টে। আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল ওকে। সঙ্গে ওর বাবা-মা।

দিনটাও পাকা হয়ে গেল। সামনের বৈশাখেই।
রাতে বাজল ফোনটা। ওপার থেকে বলল, হানিমুনে আমরা গ্যাংটক যাব...।

জানলার বাইরেটা তখন আলো-উদ্ভাসিত। জ্যোৎস্নার আলো।

কীভাবে যাবেন : ট্রেনে বা বাসে NJP। সেখান থেকে সোজা গাড়িতে গ্যাংটক। তেনজিং নোরগে বাস টারমিনাস থেকে বাসও যাচ্ছে সিকিমের রাজধানী।

কোথায় থাকবেন : নানা বাজেটের প্রচুর হোটেল আছে গ্যাংটকে।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ব্যবসা-বাণিজ্য

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  MAJOR CITIES