• A
  • A
  • A
একটি পেন-একটি গাছ-একটি প্রাণ !

পুরুলিয়া, ১০ নভেম্বর : "একটি পেন-একটি গাছ, একটি গাছ-একটি প্রাণ।" এই বার্তা দিতেই কন্যাশ্রী মেয়েরা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তৈরি করছেন পরিবেশ বান্ধব কাগজের পেন। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে এবং ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিতেই পুরুলিয়া জেলার পাড়া ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে অভিনব ওই পেন। স্থানীয় বাজার থেকে কাগজ ও রিফিল কিনে সেটিকে মুড়ে ফেলে হচ্ছে। এবং কলমের পেছনে রেখে দেওয়া হচ্ছে একটি বীজ। ওই কলম দিয়ে লেখার পর, তার কালি ফুরিয়ে গেলে মাটিতে ফেলে দিলেই কাগজ মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। কলমের পিছনে থাকা বীজ অঙ্কুরিত হবে।


কর্মরত মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেরলের বাসিন্দা লক্ষ্মীমেনম ওই ধরনের কলম তৈরি করেন। সেটা দেখার পরেই পুরুলিয়ার বাসিন্দা শম্পা রক্ষিত সেন পরীক্ষামূলক ভাবে কলম তৈরি করেছিলেন। প্রদর্শনীর জন্য রেখেছিলেন পুরুলিয়া শহরের গ্রামীণ হাটের দোকানে। বর্তমানে তিনি ওই কলম তৈরির প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। জাতীয় লাইভলিহুড মিশনের পাড়া ব্লকের প্রোজেক্ট ম্যানেজার মৌমিতা মাহাত সেই কলম দেখার পরে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। উদ্যোগ নেন ওই পেন তৈরি করার। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্যাশ্রীর কিশোরী মেয়েদের ও স্বনির্ভর দলের মহিলাদের দিয়ে ওই "সিড পেন" তৈরির কাজ শুরু হয়। কলম তৈরির প্রশিক্ষণ দেন শম্পা রক্ষিত সেন এবং মৌমিতা মাহাত। সম্প্রতি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অনুষ্ঠানে সূচনা হয় ওই পেনের।


এবিষয়ে প্রশিক্ষক শম্পা রক্ষিত সেন বলেন, "সিড-পেন খুব সহজেই তৈরি করতে শিখেছেন মহিলা ও কন্যাশ্রী মেয়েরা। বাজার থেকে রিফিল কিনে এনে খবরের কাগজ ও রঙিন কাগজ জড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে রিফিলটিকে। কলমের শেষ অংশে থাকছে ফুল বা ফলের বীজ। যেগুলো পুরুলিয়া জেলার শক্ত মাটিতেও খুব সহজেই বৃদ্ধি লাভ করে। কলমের দাম রাখা হয়েছে ৫টাকা।"



ব্লক প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌমিতা মাহাত বলেন, "কাগজের পেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়ার পর স্থানীয় BDO এবং SDO-র কাছে ওই তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখানো হয়। তাই আজকে এই কাজ সম্ভব হচ্ছে। আগামীদিনে এই সিড পেন দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। ইতিমধ্যে এই কলমের চাহিদা খুবই বেড়েছে।"

এইভাবে কাগজের কলম তৈরির কথা শোনার পরই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হন SDO (রঘুনাথপুর) আকাঙ্খা ভাস্কর। তাঁর উদ্যোগে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার কলম তৈরি করে ফেলেছেন কন্যাশ্রী ও স্বনির্ভর দলের মহিলারা। আকাঙ্খা বলেন, "পরিবেশ বান্ধব ওই পেন ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ কম হবে। এই সিড পেনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে এবং ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প মিলিয়ে কলম তৈরির কাজ চলছে।

পুরুলিয়া নিস্তারিণী কলেজের ছাত্রী রফত পারভিন ওই সিড পেন তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, "কলেজের বান্ধবী এবং শিক্ষিকাদের কাছে ওই কলম ব্যবহার করার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে।"

পুরুলিয়া জেলাশাসক অলোকেশপ্রসাদ রায় বলেন, "১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে পাড়া ব্লকে ক্লাস্টার প্রোজেক্টের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। বীজ সরবরাহ করা হবে ১০০ দিনের প্রকল্প থেকেই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণের কাজে যাতে কলমগুলি ব্যবহার করা হয় সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কলম ব্যবহারে মানুষ আগামীদিনে খুব বেশি আগ্রহী হবেন।"


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  পুজোর খবর

  MAJOR CITIES