• A
  • A
  • A
দুই মহিলার অস্বাভাবিক আচরণ, ডাইনির কুসংস্কারে আচ্ছ্ন্ন পিংলা

পিংলা, ১৪ জুন : আধুনিক সমাজে সচেতনতা শিবির, কর্মশালা, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সত্ত্বেও কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে রয়েছে পিংলার মিরপুর গ্রাম। তিন বছরে পিংলা ব্লকের কুশুমদা এবং ব্রাক্ষণবাড় গ্রামে ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে মারা হয়েছে দুজনকে। প্রশাসনের তরফে সেই সময় নানা ধরনের সচেতনতা শিবির, মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়েছিল। কিন্তু তার যো কোনও প্রভাব ওই গ্রামের একাংশ মানুষের মধ্যে পড়েনি, তারই প্রমাণ পাওয়া গেল গত দু-তিনদিনের ঘটনায়। দুই মহিলার অস্বাভাবিক আচরণ ঘিরে ডাইন-ডাইনি অপবাদ দেওয়া হচ্ছে এক ব্যক্তি এবং তাঁর মেয়েকে।

ছবি-অস্বাভাবিক আচরণকারী, ভিডিওয়-স্থানীয় মহিলার বক্তব্য


স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে পিংলা ব্লকের মিরপুরে আবার ডাইনি ভর করেছে স্থানীয় বাসিন্দা মাম্পি চক্রবর্তী এবং রুণা প্রামাণিকের উপর। এই দুই মহিলা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন, কখনও প্রলাপ বকছেন, তো কখনও নানা অঙ্গভঙ্গিতে হাসাহাসি করছেন। মাঝেমধ্যে উচ্চস্বরে কান্নাকাটিও লেগে রয়েছে। ফলে এঁদের নিয়ে ক্রমশই উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার পরিজনদের। তাঁদের এই আচরণের জন্য গ্রামবাসীদের একাংশ স্থানীয় বাসিন্দা অজিত প্রামাণিক এবং তাঁর মেয়ে কবিতা প্রামাণিককে দায়ি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাবা-মেয়ে ডাইনি বিদ্যা জানেন। তাঁরাই অশরীরী আত্মাকে ডেকে গ্রামে এসব কাণ্ড বাধাচ্ছেন।



অস্বাভাবিক আচরণকারী

গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে গৃহবন্দী হয়ে রয়েছেন অজিতবাবু এবং তাঁর মেয়ে। ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না তাঁরা। প্রতি মুহূর্তে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এদিকে যাঁরা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন তাঁদের দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অন্য গ্রামের লোকজন।


ফাইল ফোটো

গত বছর পিংলায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ডাইনি সচেতনতা শিবির করা হয়েছিল। তার কোনও প্রভাব যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষের উপর পড়েনি, তারই প্রমাণ এই ঘটনা।

অভিযুক্তরা সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাইছেন না।

তিন বছর ধরে পিংলার ওই গ্রামে একাধিক পরিবারের মহিলাকে এধরনের আচরণ করতে দেখা গেছে। তাঁদের সুস্থ্ করার জন্য বহুবার ওঝাদের গ্রামে ডাকা হয়েছে। তাতেও যথারীতি কোনও লাভ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের আচরণকারীদের মেডিকেল টেষ্ট করা হয়েছে। তাতেও শারীরিক কোনও জটিলতা ধরা পড়েনি।


ফাইল ফোটো

এব্যাপারে পিংলার BDO শঙ্খ ঘটক বলেন, “সংবাদমাধ্যমে প্রথম এই খবর শুনলাম। এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। ওই গ্রামে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH) এবং মেডিকেল টিম নিয়ে যাব। সচেতনতার জন্য যা যা করণীয় আমরা তা করব। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, “বহু চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও এই সামাজিক ব্যাধি রয়ে গেছে। গোড়া থেকে নির্মূল করা যায়নি এই ধরনের কুসংস্কারকে। কিন্তু আমরা প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। খুব দ্রুত আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেডিকেল টিম সহ ওই গ্রামে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতা শিবির করব।”

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  পুজোর খবর

  MAJOR CITIES