• A
  • A
  • A
বার বার যেতে ইচ্ছা করবে এমনই সুন্দর ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল

প্রকৃতির টানে চলে আসুন জঙ্গলমহলে। জঙ্গলমহল শুনে আঁতকে উঠলেন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এখন আর সেই জঙ্গলমহল নেই। একসময় এই এলকাতেই ছিল মাওবাদীদের দাপাদাপি। প্রকৃতির সতেজ বাতাস হয়ে উঠেছিল লুপ্তপ্রায়। পরিবর্তে বাতাসে মিশে থাকত বারুদের পোড়া গন্ধ। সেসবই আজ অতীত। বর্তমানে রাজ্য পর্যটন দপ্তর ঢেলে সাজিয়েছে জঙ্গলমহলকে। তারই অঙ্গ হিসাবে মনোরম ঝাড়গ্রাম আজ নিজস্ব সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। তাই আজ পর্যটনের নতুন স্লোগান হতেই পারে- চলো যাই ঝাড়গ্রাম।


কয়েক বছর আগেও এখানে আসতে ভয় পেতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু, রাজ্য সরকারের তৎপরতায় একদা “মাওবাদীদের” জঙ্গলমহল হয়ে উঠেছে “পর্যটকদের” জঙ্গলমহল। এখানকার পর্যটনস্থলগুলিতে মানুষের ঢল উপচে পড়ছে। কোথাও চড়ুইভাতি তো কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে জঙ্গলমহলে চলে আসছেন ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি। রাজ্যবাসী আজ পাহাড়-সমুদ্রের পাশাপাশি সমানভাবে আকর্ষণ অনুভব করছেন জঙ্গলের জন্যও।




এখানে বেড়াতে আসা খুবই সহজ। হাওড়া থেকে অজস্র ট্রেন ছাড়ে। সরাসরি ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত অথবা খড়গপুর থেকে আলাদাভাবেও পৌঁছে যাওয়া যায়।

ঝাড়গ্রাম থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের বেলপাহাড়ি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। দলমা পাহাড়ের নিচের অরণ্য যেন সৌন্দর্যের আঁতুড়ঘর। শাল, মহুয়া, পিয়াল, সোনাঝুরি, শিরিষ, ইউক্যালিপটাস সবই মিলবে বেলপাহাড়ির জঙ্গলে। সুন্দর নৈস্বর্গিক শোভার মাঝে সরল মানুষজন। চোখে পড়ে কানাইশোল পাহাড়ের ঢালে পূর্ণিমার চাঁদ। মকর সংক্রান্তিতে এলাকা জুড়ে চলে টুসু উৎসব। বেলপাহাড়ি থেকে লাল মোরামের পথ পৌঁছে দেয় স্বপ্নপুরী ঘাঘরায়। ৯ কিমি পথ। জিপে যাওয়া যেতে পারে, কিংবা হেঁটে। সংক্ষিপ্ত রাস্তায় সময় লাগে মিনিট ৪০। শাল-পিয়াল-অমলতাস-ইউক্যালিপটাসের বনবাসর ভেদ করে পায়ে চলা পথ। পাহাড়ে ঘেরা চারপাশ। চারিদিকে সবুজ শালের সমারোহ। আর মাঝে বিস্তীর্ণ ব্ল্যাক স্টোনের অজস্র গহ্বর ভেদ করে সাপের ফণার মতো ফুঁসছে জলরাশি। ইতিউতি মাথা উঁচিয়ে আছে টিলা। জলের আঘাতে এখানকার পাথরগুলির আকৃতি কলসি বা গাগড়ির মতো। স্থানীয় ভাষায় তাকে বলে ‘ঘাঘরা’। সেখান থেকেই ঘাঘরা নামটির জন্ম। বহু কাল ধরেই এই ঘাঘরা স্থানীয় উপজাতির কাছে অন্যতম পবিত্র স্থান। ঘাঘরার মাঝ দিয়ে বয়ে যায় তারাফেণি। অদূরে তারাফেণি ব্যারেজ। কংসাবতীর জল বন্দী হয়েছে ১০ লকগেটের বাঁধে। বেলপাহাড়ি থেকে আরও ১০ কিমি যেতে তামাজুড়ি বাসপথে ভুলাভেদা। সেখান থেকে ১৮ কিমি হেঁটে বা সাইকেলে বা জিপে চলে যাওয়া যায় জঙ্গলের অন্দরে, কাঁকড়াঝোড়ে।



বেলপাহাড়ীর কাঁকড়াঝোড়, গাড়রাসিনি পাহাড়, লালজল গুহা যাওয়ার জন্য সুন্দর চকচকে রাস্তা হয়েছে। ঝাড়গ্রামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে সেজে উঠছে জঙ্গলমহল জুওলজিক্যাল পার্ক। এছাড়াও চিল্কিগড়, গোপীবল্লবপুর ইকোপার্ক সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র সাজানো হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ঘুরতে এসে বেলপাহাড়ী ঘাঘরা, গাড়রাসিনি পাহাড়, লালজল, খাঁদারানি ভ্যাম্প, নয়াগ্রামের রামেশ্বর মন্দির, জামবনী চণ্ডীগড়ের কনকদুর্গা মন্দির, জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক(আগের নাম ডিয়ার পার্ক), ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ঘোরার সুযোগ পেয়ে যাবেন পর্যটকরা।



বর্তমানে ঝাড়গ্রামে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি টুরিস্ট কমপ্লেক্সে ২২টি কটেজ রয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে বাঁদরভুলায় রাজ্য বন উন্নয়ন নিগমের তিনটি কটেজে ছয়টি ডবল কটেজ রয়েছে। এই দুটিতে অনলাইনের পাশাপাশি স্পট বুকিংও হয়। এছাড়া ঝাড়গ্রাম লজ-হোটেল ওনারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ো মোট ১৫টি লজ-হোটেল রয়েছে।

পর্যটকদের একাংশের বক্তব্য, “আমরা জঙ্গলমহল সম্বন্ধে যে সমস্ত বিজ্ঞাপন বা খবর পেয়েছি তার থেকেও বেশি সুন্দর এই জঙ্গলমহল। কোথাও পাহাড়-শাল জঙ্গলে ঘেরা সুন্দর পরিবেশ, কোথাওবা পাহাড়ের গা ঘেঁষে চুঁয়ে পড়া ঝরনা, আবার কোথাও পাহাড় ঘেরা ঝিলে পরিযায়ী পাখিদের কোলাহল। আগে জঙ্গলমহল সম্পর্কে যা শুনেছিলাম তাতে ভয়ে আসতে চাইতাম না। এখানে আসার পর বুঝলাম, জঙ্গলমহল সম্পর্কে যা শুনেছিলাম সবই ভুল। বারবার আসতে ইচ্ছা করবে এমনই জঙ্গলমহলের সৌন্দর্য।”

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES