• A
  • A
  • A
'৯৮'-র বড়মার শতবর্ষ পালন, ভোটব্যাঙ্ক স্ট্র্যাটেজি মমতার ?

ঠাকুরনগর, ১০ নভেম্বর : বড়মা বীণাপানি ঠাকুরের শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আগামী ১৫ নভেম্বর ঠাকুরবাড়ি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে অবশ্য ১০০টি গোলাপ বীণাপানিদেবীর কাছে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। যা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু বীণাপানিদেবীর জন্মদিন নিয়ে শুরু হয়েছে জলঘোলা। মুখ্যমন্ত্রী জন্ম শতবর্ষ পালন করলেও কাগজ-কলমে বড়মার বয়স ৯৮ বছর। আর এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাকুরবাড়ি যাত্রা বলে মনে করছেন এলাকার রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় মানুষজন।

ফাইল ফোটো


মতুয়া বড়মায়ের জন্ম শতবর্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার কথা থাকলেও বড়মায়ের ভোটার কার্ড কিন্তু অন্য কথা বলছে। সরকারি নথি অনুযায়ী পয়লা জানুয়ারি ২০১৮-তে বড়মার বয়স ৯৮ বছর। তাছাড়া বনগাঁর মহকুমাশাসকের দেওয়া একটি পুরোনো শংসাপত্রে বড়মার জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর ১৯২০ সাল। খোদ বড়মার নাতি শান্তনু ঠাকুরও দাবি করেছেন, তাঁর ঠাকুমার বয়স ১০০ হয়নি। আর এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কি লোকসভা ভোটের আগে বড়মার জন্ম শতবর্ষ পালন করে তৃণমূল মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চাইছে ? যদিও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাতে আমল দিতে চাননি। বয়স নিয়ে শান্তনুর যুক্তির জবাবে তিনি বলেন, "ও বাচ্চা ছেলে। ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে জল খেয়েছে। তাই এসব বলছে।"


বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই জল্পনা চলছিল বড়মার নাতি শান্তনু ঠাকুর যোগদান করবেন BJP-তে। সূত্রের খবর, সেই খবর সত্যি হতে চলেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত ধরে BJP-তে নাম লেখাতে পারেন তিনি। গতমাসে মুকুল ও কৈলাসের একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসে।(ইনাডু বাংলা ওই ফোনালাপের সত্যাসত্য যাচাই করেনি।) যেখানে শান্তনুর যোগদান নিয়ে দু'জনের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়েছে। এর আগেও মুকুল রায়ের হাত ধরে মতুয়াদের একাংশ BJP-তে যোগ দিয়েছেন। আর এতেই হয়তো কিছুটা চাপে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রথমে জ্যোতিপ্রিয়কে আসরে নামিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৭ অক্টোবর খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বড়মার কাছে গিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান, কেক কাটেন ও মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো ১০০ গোলাপ উপহার দেন। কিন্তু তাতে যে চিড়ে ভিজবে না তা হয়তো আঁচ করতে পেরে খোদ মমতাই আসরে নামছেন। ১৫ নভেম্বর যাবেন সেখানে। দেখা করবেন বড়মায়ের সঙ্গে। করবেন জনসভা।



শুধু বড়মার জন্ম শতবর্ষ পালনই নয়, সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভা মতুয়াদের জন্য স্বতন্ত্র উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের কথা ঘোষণা করেছে। কেন তৃণমূলের এত মতুয়াপ্রীতি, প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

ভোট অঙ্ক বলছে, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হাওড়া-সহ রাজ্যের ৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্র মতুয়া অধ্যুষিত। তাই, মতুয়া ভোট নিয়ে দড়ি টানাটানি নতুন নয়। বাম জমানার শেষ দিকে ঠাকুরনগরের ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আগে তোয়াজ না-করলেও শেষবেলায় CPI(M)-ও মতুয়াদের মন গলানোর চেষ্টা করেছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার বিদায়ের আগে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে পুরস্কার চালু করেছিল। প্রথম প্রাপক ছিলেন ঠাকুরবাড়ির বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। মতুয়াদের বড় অংশ তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকে যায়।

তৃণমূলও সেই সুফল ঘরে তুলতে পিছপা হয়নি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঠাকুরবাড়ির ছোটো ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরকে তৃণমূল প্রার্থী করে। ভোটে জিতে মঞ্জুল মন্ত্রী হন। বামেরা ধীরে ধীরে অস্তমিত হতে থাকে। মোদি হাওয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে BJP। কিন্তু মঞ্জুল আচমকা মন্ত্রিত্ব ছেড়ে BJP-তে যোগ দেন। তখন থেকে মতুয়া ভোটে ভাগ বসাতে শুরু করে BJP-ও। তৃণমূল মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ঠাকুরবাড়ির বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে। কপিলবাবুর অকালমৃত্যুতে উপনির্বাচন হয়। তৃণমূল প্রার্থী করে তাঁর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুরকে। BJP-ও মঞ্জুলপুত্র সুব্রত ঠাকুরকে জেঠিমার বিরুদ্ধে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক দেয়। শেষমেশ অবশ্য মমতাবালাই জয়ী হন। কিন্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের সেই আড়াআড়ি বিভাজন আর রোখা যায়নি। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ইশুতেও সেই বিভাজন দেখা গেছে। মমতাবালার শিবির রেল-সড়ক অবরোধ করেছে। আবার সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের ডাকে গোপালনগরে মতুয়া মহা-সম্মেলন হয়। সেখানে হাজির হন BJP নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়।

দোড়গোড়ায় লোকসভা নির্বাচন। ঘর গোছাতে শুরু করেছে সব রাজনৈতিক দলই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই অবস্থায় মতুয়ারা হাতছাড়া হলে বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে তৃণমূল নেতৃত্ব। তা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আর সেকারণেই নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে নিজেই আসরে নামছেন বলে মত অনেকের।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  পুজোর খবর

  MAJOR CITIES