• A
  • A
  • A
'ক্ষমতাশালী সব্যসাচী'র ১ কোটির তোলাবাজি ?

বিধাননগর, ১৩ ফেব্রুয়ারি : তিনি “ক্ষমতাশালী”। প্রভাবশালীও বটে। তাঁর কথায় নাকি বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খায়। এমনই দাপট। এহেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল। মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ত্রিপুরায় ভোট পরিচালনার জন্য ১ কোটি টাকা চাওয়া হয় তাঁর কাছে। গতকাল ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়েছিল। দিতে না পারায় ফোনে হুমকিও দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতাদের জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এবিষয়ে বিধাননগর উত্তর থানাতেও অভিযোগ দায়ের করেছেন মধুসূদন।

ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর বক্তব্য


আজ সকালে প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মধুসূদন। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। বলতে শুরু করলেন গোটা ঘটনা। “প্রথম ফোন এসেছিল ২০ দিন আগে। ট্রু কলারে ভেসে ওঠে সব্যসাচী দত্তের নাম। হ্যালো বলার পরই সব্যসাচী বলেন, “আপনি কোথায় ?” আমি বলি, “বাড়িতে আছি। অসুস্থ।” ১০ দিন বাদে (২ ফেব্রুয়ারি) ফের ফোন করেন। বলেন, “কেমন আছেন ?” আমি বললাম, দাদা আগের থেকে ভালো আছি। কথা শেষ করতে না করতেই উনি বলেন, “দাদা কিছু টাকা লাগবে। ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন তৈরি করতে হবে। বিদ্যুৎ গাঙ্গুলি (সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী) যাবে। ওর হাতে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেবেন।”



ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী

মধুসূদনের কথায়, “৩ তারিখ ফের ফোন করেন সব্যসাচী। বলেন, আপনার দেওয়া টাকা পেয়ে গেছি। ত্রিপুরায় নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৩০ লাখ টাকার বন্দোবস্ত করে দিন। আমি বললাম, বাবা হাসপাতালে ভর্তি। আপনার সঙ্গে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কথা বলব। ৫ তারিখ ফোন করেছিলাম, বললাম এত টাকা দিতে পারব না। উনি বললেন, “না আমি ওসব কথা শুনব না।” আমি বললাম, ৩০ লাখ টাকা দিতে পারব না। যা দিতে পারব ১২ ফেব্রুয়ারি আমি দিয়ে দেব। আমি ১২ তারিখ পর্যন্ত সময় চাই। তা সত্ত্বেও উনি আমায় ৭ তারিখ ফোন করেন। বলেন, “সব্যসাচী দত্ত বলছি। আমি অন্যের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়েছি। আপনি ১২ তারিখ বিকেলের মধ্যে ১ কোটি টাকা দিয়ে দেবেন। যদি না দিতে পারেন, তাহলে আমার থেকে খারাপ লোক আর কেউ হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েও লাভ নেই। বিষয়টা উনিও জানেন।”

গতরাতেও নাকি ফোন করেছিলেন সব্যসাচী। মধুসূদন বলেন, “গতরাত সাড়ে ১১টার পর ফোন করেছিলেন। আমি ভয় পেয়ে যাই। উনি আমায় বলেন, “সব্যসাচী দত্ত বলছি। কী হল ব্যাপারটা ?” আমি বলি, দাদা যেটা হওয়ার সেটা হবে। কাল আমি আপনার সঙ্গে কথা বলব। উনি বলেন, “ঠিক আছে। ঠিক আছে। কাল কথা বলব।” এরপর আজ সকাল ১০টা নাগাদ উনি আমায় ফোন করেছিলেন। আমি বললাম, দাদা আমি ডাক্তারখানায় আছি। ১২টার পর কথা বলব। আমি এবিষয়ে তৃণমূলের দু'একজন বর্ষীয়ান নেতাকে বলেছিলাম। ওনারা বলে দেন, “আমরা এবিষয়ে কিছু করতে পারব না। তুমি বিষয়টি মেটাবার চেষ্টা করো। নাহলে তোমার কিন্তু ভালো হবে না। কারণ, ওর ক্ষমতার কাছে তুমি কিচ্ছু না।” আমার কাছে টাকা নেই। আমার একটাই সাহস, পশ্চিমবাংলার জনগণ। তাই, মানুষকে জানালাম।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন মধুসূদন। বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ, আমাকে আপনি বাঁচান। উনি ১ কোটি টাকা কেন চাইছেন, আপনি তদন্ত করে দেখুন।” বিধাননগর নর্থ থানাতেও সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফোন রেকর্ডও তুলে দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকদের হাতে। তবে, এখনও ভয়ের রেশ কাটেনি। ৯৮৩০০..... নম্বর থেকে কোনও ফোন এলেই আতঙ্কে বুক কাঁপছে।

বিধাননগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় তোলাবাজির কোনও অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক অভিযোগ আছে। আর মধুসূদনের বিরুদ্ধে ২টি বড় মামলা রয়েছে। ব্যাঙ্ক জালিয়াতির কেসের তদন্ত করছে CBI। আর বি ডি ব্লকে এক মহিলার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে বিধাননগর নর্থ থানা। আর এই মামলায় গতবছরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে নর্থ থানা।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES