• A
  • A
  • A
ভোট করতে বেরিয়েছিলেন রবিবার, আজ ফিরছে রাজকুমারের দেহ

ফাঁসিদেওয়া (শিলিগুড়ি), ১৬ মে : বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রবিবার। বাবা-মাকে বলে গেছিলেন, “ভোট করিয়ে ফিরে আসব।” পরদিন (নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১৫ মে) ফোনেও কথা হয় পরিবার পরিজনের সঙ্গে। তখনও বলেন, “রাত ১২টার মধ্যে ফিরছি।” সেই শেষ কথা। “কথা” দিয়েও “কথা” রাখতে পারলেন না রাজকুমার। ফিরছেন অবশ্যই। তবে, পায়ে হেঁটে নয়। মৃতদেহ হয়ে।

রাজকুমার রায়ের বাবা-মার বক্তব্য


রাজকুমার রায়। বাবা প্রিয়নাথ রায় প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক। ছোটো ভাই হেমন্তকুমার রায় CPI(M)-এর প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য। বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফাঁসিদেওয়ার কান্তিভিটা গ্রামে হলেও কর্মসূত্রে রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে থাকতেন রাজকুমার। করণদিঘির রহটপুর হাই মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। এবছর তিনি ইটাহার ব্লকের সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ভোটগ্রহণের দিন, রাত ৮টা নাগাদ শৌচকর্ম করার কথা বলে বুথ থেকে বেরোন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেসময়ই তাঁর ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। তার আগে শেষবারের জন্য পরিজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। রাত ১২টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু, দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বাড়ি ফেরেননি। সেদিনই মাঝরাতে রাজকুমারবাবুর খোঁজ করতে তাঁর পরিজনরা পৌঁছান ইটাহার ব্লক অফিসে। কাল সকাল ১০টা নাগাদ ইটাহার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন ইটাহার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO)। কাল সন্ধ্যায় সোনাডাঙি এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে ক্ষতবিক্ষত একটি দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, দেহটি রাজকুমারেরই। এরপর আজ পরিবারের তরফে দেহের শনাক্তকরণের পর সেই অনুমান সত্যি হয়।


এই সংক্রান্ত আরও খবর : রায়গঞ্জে নিখোঁজ প্রিসাইডিং অফিসারের দেহ উদ্ধার

ছেলের মৃত্যুর খবর জানতেন না রাজকুমারের বাবা-মা। বাবা-মার বয়স হয়েছে তাই হেমন্তও কিছু বলতে চাননি। বলেছিলেন, “দাদা বেঁচে আছে। ঠিক আছে। কোনও সমস্যা নেই। চিন্তা কোরো না।” আজ সকালে রাজকুমারের বাড়ি যান আমাদের প্রতিনিধি। তখনই ছেলের মৃত্যুর খবর শোনেন প্রিয়বাবু ও অন্নদাদেবী (রাজকুমারের মা)। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।

এই সংক্রান্ত আরও খবর : রায়গঞ্জে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ প্রিসাইডিং অফিসার

অন্নদাদেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “কিছুই জানতাম না। কী করে কী হল বুঝতে পারছি না। ছেলেটা সৎ ছিল। নিজে অন্যায় করত না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। আমার ছেলেকে কি ফিরিয়ে দিতে পারবে ?” প্রিয়বাবু বলেন, “সবাই বলছিল বেঁচে আছে। আমি অনেকবার খোঁজ নিয়েছি। কেউ আমাকে সত্যিটা বলতে চায়নি। আশঙ্কা করছিলাম কিছু একটা হয়েছে। ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনব এটা ভাবতেও পারিনি।”

রাজকুমারের মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর বাড়িতে ভিড় করেছেন পাড়া প্রতিবেশীরাও। জগদীশ রায় নামে রাজকুমারের এক বন্ধু বলেন, “ওকে ছোটো থেকে চিনি। খুব ভালো ছেলে। সবার সঙ্গে মিশতে পারে। আমাদের মনে হচ্ছে প্রতিবাদ করতে গিয়েই প্রাণ গেল। বুথে নিশ্চয়ই কিছু গন্ডগোল হয়েছিল। ও প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের প্রাণ দিয়েছে।”


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES