• A
  • A
  • A
ফ্লুরোসিস রোগে আক্রান্ত পুরুলিয়ার কয়েক হাজার বাসিন্দা

পুরুলিয়া, ১০ এপ্রিল : ক্ষয়ে গেছে দাঁত। বেঁকে যাচ্ছে হাড়। চলনশক্তি হারাচ্ছেন অনেকে। কারণ, জলে রয়েছে মাত্রারিক্ত ফ্লুরাইড। যার জেরে ফ্লুরোসিস রোগে আক্রান্ত পুরুলিয়ার ৭টি ব্লকের কয়েক হাজার গ্রামবাসী। এই রোগে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দাঁত ও হাড়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুলিয়া জেলার বহু জায়গায় ডেন্টাল ও স্কেলিটন ফ্লুরোসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসীরা।

অধ্যাপক বিশ্বজিৎ বেরার বক্তব্য


পুরুলিয়ার মোট ২০টি ব্লকের মধ্যে রঘুনাথপুর, কাশীপুর, বাঘমুণ্ডী, ঝালদা ১ এবং ২, পাড়া, পুরুলিয়া-২ এলাকার জলে সহনীয় মাত্রার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে ফ্লুরাইড। বিওরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ-এর মতো সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক লিটার জলে ০.৫-১.২ অথবা ০.৬-১.৫ মিলিগ্রাম ফ্লুরাইড মানব শরীরের জন্য সহনীয়। যাকে বলে "পার্মিসেবল লিমিট"। অথচ পুরুলিয়ার উল্লিখিত ব্লকগুলিতে বেশ কিছু নলকূপ এবং কুয়োতে জল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এক লিটার জলে ৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ফ্লুরাইড পাওয়া গেছে। জলে এত পরিমাণ ফ্লুরাইডের মাত্রা "ক্রিটিক্যাল লিমিট" পেরিয়ে গেলে তা আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে পুরুলিয়ার বহু নাগরিক আজকে ফ্লুরাইডের কবলে পড়েছেন।


এই বিষয়টি নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন পুরুলিয়ার সিধো কানহো বিরশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ বেরা। তিনি বলেন, আর এক রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অরিজিত ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পুরুলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় জল পরীক্ষা করেছেন। মানুষের সহনীয় ফ্লুরাইডের মাত্রার তুলনায় ১৬ গুণ পর্যন্ত বেশি ফ্লুরাইড তাঁরা জলে পেয়েছেন। এই ফ্লুরাইড সমস্যা শুধু পুরুলিয়া জেলার নয়। রাজ্যের আরও বহু জায়গায় থাবা বসিয়েছে এই সমস্যা। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের বহু জেলাতেও এই সমস্যা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে নদী এবং বড় জলাধার। পুরুলিয়ার মানুষকে মুক্তি দিতে পারে দুটি নদী। পুরুলিয়া জেলার সীমানা দিয়ে বয়ে চলেছে দামোদর ও সুবর্ণরেখা নদী। এই দুই নদীতে সারা বছরই জল থাকে। এই দুই নদীর জল পাইপলাইনের মাধ্যমে ফ্লুরাইড আক্রান্ত গ্রামগুলিতে পৌঁছে দেওয়া যায়। যে ড্যামগুলিতে জল থাকে, সেখান থেকেও একইভাবে পানীয় জল সরবরাহ করা যায়। ব্যবস্থা হিসেবে আরও ড্যাম নির্মাণ করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা করলে জেলার কয়েক লাখ ফ্লুরাইড আক্রান্ত গ্রামবাসীকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

ফ্লুরাইড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি খনিজ। যা গ্রানাইটিক নিস এবং পেগমাটাইট প্রস্তরের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে থাকে। এই প্রস্তর প্রিক্যামব্রিয়ান সময়ে গঠিত হয়েছিল। পরিবেশগত কারণে পুরুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে অনবরত তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। নিরন্তর আবহবিকারের জন্য ফ্লুরাইড কণা মৃত্তিকার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তার থেকেই এটি ভৌম জলের সঙ্গে মিশছে।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES