• A
  • A
  • A
মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন রজতকে ? গ্রেপ্তার অনিন্দিতা

নিউটাউন, ২ ডিসেম্বর : আইনজীবী রজত দে'র মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশের দাবি, টানা জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন রজত দের স্ত্রী অনিন্দিতা। তবে রজতের রহস্যমৃত্যুর রাতে অনিন্দিতার ভাই অভীক পালের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অনিন্দিতাকে


গতকাল দুপুরে অনিন্দিতাকে আটক করে নিউটাউন থানার পুলিশ। তারপর দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সন্ধ্যায় টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনিন্দিতা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনের কথা স্বীকার করেন তিনি। মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে তিনি খুন করেছিলেন রজতকে। তবে অনিন্দিতার এই উত্তর সহজে মেনে নিতে নারাজ পুলিশ। কারণ, গোটা ঘটনায় একটা নির্দিষ্ট চক্রান্তের ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। রজত ও অনিন্দিতার একটি সন্তান রয়েছে। রয়েছে তাদের একটি পোষ্য কুকুরও। ঘটনার দিন সন্তান এবং পোষ্য কুকুরকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন অনিন্দিতা। সেটা প্ল্যানমাফিক কি না, তা জানার জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

সূত্রে খবর, রজতের রহস্যমৃত্যুর পর এক তৃতীয় ব্যক্তি সেখানে এসেছিল। সেই তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকা এখনও রহস্য। অনিন্দিতা যেটা পুলিশকে বলেছেন, তার সারমর্ম হল শনিবার রাতে নিউটাউনের রেস্তরাঁয় খেতে যান তাঁরা। ফেরার পথে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। বাড়ি ফিরে অনিন্দিতা রজতকে অন্য ঘরে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। কারণ জানতে চাইলে রজতকে বলেন, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁকে আলাদা ঘুমাতে হবে। এরপরই দু'জনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। ঘর থেকে একটি চাদর নিয়ে এসে রজত বলেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন। এরপরই অনিন্দিতা ঘর থেকে মোবাইলের চার্জারের তার নিয়ে রজতের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রজতের।
এই সংক্রান্ত খবর :নিউটাউনে আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু; সন্দেহের তালিকায় স্ত্রী অনিন্দিতা

এই সংক্রান্ত খবর : চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব বানানো ! আইনজীবী মৃত্যুর ঘটনায় আটক স্ত্রী

গতকাল দুপুরে বারাসত জেলা আদালতে অনিন্দিতাকে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। এই বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিটর বিভাস চ্যাটার্জি বলেন, "এই খুনের মামলায় আমরা ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিলাম৷ কিন্তু, বিচারক ৮ দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছে।"
অন্যদিকে, অনিন্দিতার আইনজীবী চন্দ্রশেখর বাগ বলেন, "এটি খুন না অন্য কিছু, তা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখুক। আমার মক্কেল প্রথম থেকেই এই কেসে সহযোগিতা করে আসছেন৷ আগামীতেও করবেন। তাঁর দেড়বছরের শিশুসন্তান রয়েছে। জামিন নাকচ হলেও আমরা ফের জামিনের জন্য আবেদন করব।"
ইতিমধ্যে অনিন্দিতার মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেগুলি থেকে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী অফিসাররা। এছাড়া, পুলিশি হেপাজতে পাওয়ার পর অনিন্দিতাকে জেরা করে এই বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.