• A
  • A
  • A
শিক্ষিকাকে স্কুলে যেতে বাধা স্থানীয় তৃণমূল নেতার ; রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট

কলকাতা, ১২ জুন : বরানগরের স্কুল শিক্ষিকা তনুজা সামন্তকে কেন স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, রাজ্য সরকারকে তা সাতদিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

ফোটো- শিক্ষিকা তনুজা সামন্ত, ভিডিওয় তাঁর বক্তব্য শুনুন


ঘটনার সূত্রপাত মার্চ মাসে। হঠাৎই স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী তাঁকে স্কুলে আসতে মানা করেন। এই স্বপন চক্রবর্তী স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে খুন জখম সহ একাধিক অসামাজিক কাজকর্মের মামলা রয়েছে পুলিশের খাতায়। তিনি আবার এলাকায় “মোটা স্বপন” ওরফে “মোটা” নামে বেশি পরিচিত। এলাকায় তাঁর ভয়ে নাকি টুঁ শব্দটিও কেউ করে না। বা করার সাহস দেখায় না। অভিযোগ, তিনি তনুজার স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। অভিযোগ, “চিঠি পাঠিয়ে স্বপন বলে দেন, আপনার আর স্কুলে আসার দরকার নেই। এলে ক্ষতি হবে।”



শিক্ষিকা তনুজা সামন্ত

প্রথম প্রথম তনুজা স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাঁকে ভয় দেখানো হয়। শেষপর্যন্ত তিনি বরানগর থানায় অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু, “মোটাবাবুর” নাম শুনে বরানগর থানার পুলিশও চুপ করে যায়। কোনও অভিযোগ না নিয়েই তনুজাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। কোনও উপায় না দেখে মাস দুয়েক আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তনুজা। আজ হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি হয়।


স্বপন চক্রবর্তী

বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে ওঠে মামলাটি। শুনানি চলাকালীন তনুজার দুই আইনজীবী উদয়শঙ্কর ও অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, "আমাদের মক্কেল শিক্ষিকা। স্থানীয় তৃণমূল নেতা স্বপন চক্রবর্তী স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি। প্রধান শিক্ষিকা মুনমুন দাস ও তনুজাদেবীর মধ্যে মাঝেমধ্যে কাজের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হত। যা নিয়ে তনুজা পরিচালন কমিটিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তনুজাকে লোকের হাতে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় তিনি যেন স্কুল না আসেন। স্কুলে এলে পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এনিয়ে বরানগর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি।"



এরপর সরকারি আইনজীবী বলেন, “এই ঘটনার ইতিমধ্যে তদন্ত করছে বরানগর থানা।” বিচারপতি তখন বলেন, “তাহলে পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিল না কেন ? পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট কোথায় ?” সেই সময় সরকারি আইনজীবী আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। যে রিপোর্ট দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারপতি। এরইমধ্যে মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, তনুজাদেবী এখন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তখন তনুজাদেবীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি।

এর আগে আমাদের প্রতিনিধি তনুজার সঙ্গে কথা বলেন। তখন তিনি বলেন, “সমস্যা ঠিক কী, সেটাই জানিনা। হঠাৎই আমাকে স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। কেন, কী বৃত্তান্ত, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার তো মনে হয়, আমার জায়গায় অন্য কাউকে আনতে চাইছে। আমি থাকলে ওদের বোধহয় অসুবিধা হবে।” তনুজা আরও বলেন, “আমাকে কোনও সাসপেনশন লেটার দেয়নি। অথচ বলা হচ্ছে আমি সাসপেন্ডেড শিক্ষক। কোনও প্রমাণ নেই। আমাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কাটা হচ্ছে না। সাসপেনশনের কাগজ দেয়নি।”

শুধু স্বপনবাবু নন, তনুজার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন পৌরপ্রতিনিধি তথা ওই স্কুলের শিক্ষিকা সুস্মিতা চ্যাটার্জি ও তাঁর স্বামী তথা স্কুলের প্রাক্তন সচিব সুবীরবাবু।

সুবীরবাবুর প্রসঙ্গে তনুজা বলেন, “আমি একজন মহিলা। আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে জানেন? অশ্রাব্য কথা। প্রধান শিক্ষিকাও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।”


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES