• A
  • A
  • A
নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় রামের গান বন্ধ করতে হুমকি OC-র, আইন কী বলছে

কলকাতা ও জাঙ্গিপাড়া, ৭ মার্চ : হুগলির জাঙ্গিপাড়া থানার ফুরফুরার কাছে বেলেপাড়া গ্রাম। চলছে প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা। বাজছে বক্স। আনন্দে মত্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ সেখানে এলেন জাঙ্গিপাড়া থানার OC অমলেন্দু বিশ্বাস। এসেই ধমক দিতে শুরু করলেন। কারণ কী ? না, শোভাযাত্রায় বাজছিল জয় শ্রী রাম নিয়ে একটি গান। ওই গানটি বন্ধ করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিলেন OC। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ওই গান কোনওমতে চালানো যাবে না। তবে রামের অন্য যেকোনও গান চালানো যাবে বলে জানান। প্রশ্ন উঠছে, কোনও একটি গান বন্ধ করার নির্দেশ কি দিতে পারেন তিনি ? বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বললেন, পুলিশ নিজে থেকে এমন কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না।

OC-র হুমকি ও অরুণাভ ঘোষের প্রতিক্রিয়া


ঘটনাটি ঠিক কী হয়েছিল ?


দোলের দিন (০১-০৩-২০১৮) বেলেপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা (তার মধ্যে ছিল BJP কর্মী, সমর্থকরাও) সরস্বতী প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য শোভাযাত্রা বের করেছিলেন (এখানকার বাসিন্দারা সরস্বতী পুজোর পর প্রতিমা রেখে দেন। দোলের দিন সেই প্রতিমা নিরঞ্জন করেন)। সেই শোভাযাত্রায় বাজছিল রামকে নিয়ে একটি গান। ওই এলাকায় মুসলিম ধর্মের মানুষও বসবাস করেন। অভিযোগ, এলাকার কোনও ব্যক্তি থানায় ফোন করে বলেন, জয় শ্রী রামের গান বাজিয়ে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে সেখানে যায় জাঙ্গিপাড়া থানার OC অমলেন্দু বিশ্বাস। রামের ওই গান বন্ধ করতে বলেন তিনি। রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় তাঁকে।

তিনি বলেন, “আমি কিন্তু ভালোভাবে বলছি, একটা গান বলেছি, ওটা বন্ধ থাকবে। এবার কিন্তু আমি অন্য কথা বলব। আমি জানি, হিন্দুধর্ম কী। রামের কী গান আছে, আমি জানি। রামের ওই গান চলবে না। রামের অনেক গান আছে। বাকি যেকোনও গান চলুক। বেশি বাজার গরম করা চলবে না। নাচের যেকোনও গান চলুক, আমি বাধা দিইনি। কিন্তু, ওই গানটা চলবে না। তাতে ঠাকুর আটকে যায়, যাক।” তাঁর এই বক্তব্য কেউ কেউ মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় রেকর্ড করেন।

কিন্তু, হঠাৎ কেন রামকে নিয়ে বিশেষ একটা গান বন্ধ করতে বললেন জাঙ্গিপাড়ার OC ? এই ধরনের কোনও নির্দেশ কি তিনি দিতে পারেন ?

কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বলেন, “প্রথমত, সরকারি নির্দেশ থাকলে পুলিশ সব গানই বাজাতে বাধা দিত। বলত, এখানে পরীক্ষা চলছে, কোনও গান বাজানো যাবে না। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক জিগির তোলে এমন গান না বাজানোর নির্দেশ দিতে পারে সরকার। সেটা সরকারি নির্দেশেই বন্ধ করা যাবে। যেমন, মারো হিন্দু, মারো মুসলমান, মারো শিখ...এমন গান সরকারি নির্দেশে শুধু বন্ধ করা যায়।”

তাহলে ওই পুলিশ অফিসার কেন ওই গান বন্ধ করতে নির্দেশ দিলেন ?

অরুণাভবাবু বলেন, “পুলিশের বেশিরভাগ লোকের হিসাব বহির্ভূত আয় ভরে গেছে। ঘুষ নিতে বাধা নেই। যার জন্য সরকারের তাঁবেদারি করে। তার মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়, নিচুতলার নেতাদের তাঁবেদারি করে। এরা আগে CPI(M)-র তাঁবেদারি করত, এখন তৃণমূলের করছে। আর পরে BJP-র করবে। নিজেদের জাহির করতে এই কাজ করে পুলিশ। রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। যে ধরনের কথা পুলিশ বলছে, তা রংবাজের কথা। এটা নিন্দনীয়।”

বর্তমান সরকারকে আক্রমণ করে অরুণাভবাবু বলেন, “এই ধরনের সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। এবং এতে পুলিশ মদত দিচ্ছে। নিজের ভোট রাজনীতির জন্য পুলিশকে দিয়ে একাজ করাচ্ছে তৃণমূল। অসহিষ্ণুতার রাজনীতি। এখন আবার হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বৃদ্ধি হচ্ছে। তারাপীঠ সহ বিভিন্ন মন্দিরে গেলে দেখতে পাবেন তৃণমূল নেতারা ছবি দিচ্ছেন। তাঁরা দেখাতে চাইছেন, কতটা বড় হিন্দু। এটা আসলে ভোটের জন্য।”

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা BJP সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “জয় শ্রী রাম গান গান বাজানোর জন্য জাঙ্গিপাড়ার OC আমাদের ছেলেদের ধমকান। এই গান বন্ধ করতে হবে। কিন্তু, সংবিধান এমন কোনও অধিকার OC-কে দেননি যে উনি কোনও গান বন্ধ করতে পারবেন। উলটে উনি যদি কোনও গান বাজানোয় জোর করে বাধা দেন, তাহলে সেটা সাম্প্রদায়িক বিভেদের সৃষ্টি করবে। রাজ্য প্রশাসন এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, জয় শ্রী রাম গান বাজাতে বারণ করছে। সেটা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে।”

জাঙ্গিপাড়া থানার OC অমলেন্দু বিশ্বাসকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি কখনোই রামের গান বন্ধ করতে বলিনি। কিন্তু সেদিন শোভাযাত্রায় যে গান বাজানো হচ্ছিল, তাতে বেশকিছু আপত্তিকর কথা ছিল যা শান্তি সম্প্রীতির পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারতো। তাই গান বন্ধ করতে বলা হয়েছিল।”

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES