• A
  • A
  • A
চন্দননগরের মালের পর এবার দার্জিলিঙের ঢাল, মা-বোনকে ধর্ষণের হুমকি পুলিশের মুখে ?

শিলিগুড়ি, ১১ মার্চ : “তোমার বোনকে..... দিতে পারি। তোমার মাকেও .... দিতে পারি। তোমার ঘর জ্বালিয়ে দেব।” অচ্যুতম ভট্টরাই নামে এক মোর্চা সমর্থককে নাকি ঠিক এই ভাষাতেই হুমকি দিয়েছেন দার্জিলিং সদর থানার IC সৌম্যজিৎ রায়। বিষয়টি সামনে আসার পর ওই পুলিশ আধিকারিককে ফোন করে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, বিষয়টি উচ্চতর আধিকারিকরা দেখছেন। তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এরপর ফোন করা হয় দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অখিলেশ চতুর্বেদীকে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অডিও-ক্লিপটি সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে। কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দেখা হবে সৌম্যজিৎ রায়ের ভূমিকা।

এই বিতর্কিত অডিও ক্লিপ প্রকাশ পেতেই সমালোচনার মুখে দার্জিলিং পুলিশ


আগামীকাল পাহাড় সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক তার প্রাকমুহূর্তে একটি অডিও-ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায় গতরাতে মোর্চা নেতা রোশন গিরি, Whatsapp-এ অডিও ক্লিপটি পাঠান সাংবাদিকদের। অডিও ক্লিপটি একটি ফোনের রেকর্ডিং। অভিযোগ, দার্জিলিঙের থানার IC সৌম্যজিৎ রায়কে বলতে শোনা যায়, “সবাই যোগ দিচ্ছে, মানুষের কাজ দরকার, লোকজন সিভিক পুলিশে জয়েন করছে। আপনার কী অসুবিধা ?” কথোপকথন শুনে যেটুকু মনে হয়, এলাকার মানুষকে সরকারি কাজে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন ওই মোর্চা কর্মী। সেই খবর পুলিশের কানে আসে। ফলে পুলিশ আধিকারিক ফোন করেন অচ্যুতম ভট্টরাই নামে ওই মোর্চা-কর্মীকে। (সম্ভবত উদ্দেশ্য ছিল একটু কড়কে দেওয়া।) জিজ্ঞাসা করেন, “ভাই তোমার কী সমস্যা ? লোকজন কাজে যোগ দিচ্ছে। সিভিক পুলিশে যোগ দিচ্ছে, তোমার কী সমস্যা ?” এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু এরপর যে ভাষা প্রয়োগ করতে শোনা যায়, তা কোনওভাবেই ভদ্র-সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। বলেন, “তুমহারা বহেনকো ... ভি সকতা হ্যায়। তুমহারা মাকোভি... সকতা হ্যায়। তুমহারা ঘর জ্বলা দেঙ্গে।” কিন্তু আইনশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে পুলিশকে মা-বোনে নামতে কেন হল, তা বোঝা গেল না।


গতরাতে এই অডিও ক্লিপ সোশাল মিডিয়ায় ছয়লাপ হয়ে যায়। আজ বিমল গুরুং লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন এই ইস্যুতে। তিনি বলেন, যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, সেই রাজ্যের পুলিশ মা-বোনের সম্মান, সম্ভ্রম নিয়ে হুমকি দিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। বলেন, “১৯৮৬ সাল থেকেই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে ঠান্ডা করে দিতে বহু মেয়ে, বোন, মাকে ধর্ষণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এবং সৌম্যজিৎ রায়ের এই অডিও ক্লিপ সেই মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। যদি খেয়াল করেন অডিও ক্লিপে সৌম্যজিৎ রায় নিজেই বলছেন বহু ঘর জ্বালিয়েছি। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে NIA বা CBI-কে দিয়ে দার্জিলিঙে হিংসা ছড়ানোর তদন্ত করা হোক।”

দিন তিনেক আগেই নারী দিবসে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে নারী সম্মান নিয়ে কত কিছুই না হয়ে গেল দেশজুড়ে, রাজ্যজুড়ে। কিন্তু মানসিকতার পরিবর্তন আদৌ এসেছে কি ? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতানেত্রীর কথা না হয় বাদই থাক। বিধায়ক থেকে সাংসদ সময়ে সময়ে মা-বোনেদের অনেক “সম্মান” দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশের মুখে এ কী “ বাণী ” ? (অডিও ক্লিপটি যদি সত্যি হয়।)

Disclaimer : The controversial audio clip has been received from Morcha sources. Eenadu India Bangla does not claim to have verified the veracity of the clip.

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES