• A
  • A
  • A
মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে আগুন, জমিয়ে চলছে পিকনিকের রান্না

আসানসোল, ৯ জানুয়ারি : শীতে পিকনিক করার মজাটাই আলাদা। আর এই কনকনে ঠান্ডায় ছুটির দিন পেলেই পিকনিকের আয়োজন করেন অনেকেই। আর পিকনিকে খাওয়া-দাওয়া হওয়াও খুব স্বাভাবিক বিষয়। তার জন্য বাইরে থেকে জ্বালানিও ভাড়া করে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু, কখনও শুনেছেন যে পিকনিক করতে গিয়ে আর জ্বালানি নিয়ে যেতে হবে না ? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

চলছে রান্না


হীরাপুরের কালাঝরিয়া-ধেনুয়া এলাকা। দামোদর নদীর তীরে এখানে পিকনিক করতে গেলে কেউই জ্বালানি নিয়ে আসেন না। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এখানে মাটি ফুঁড়ে আগুন বেরিয়ে আসে। আর সেই আগুনেই দিব্যি রান্না করেন পিকনিক করতে আসা পর্যটকরা। আর সেখানে পর্যটকদের ভিড় একেবারে চোখে পড়ার মতো। তবে বছর কয়েক আগেও এই এলাকার ছবিটা ছিল একটু অন্যরকম।


কয়েক বছর আগেও স্থানীয় বাসিন্দাদের এই গ্যাসের কথা জানা ছিল না। ২০০০ সাল থেকে হঠাৎই দামোদর নদীর জলে বুদবুদ কাটতে দেখতেন স্থানীয়রা। পাশপাশি নদীর বালিও লাল হয়ে উঠত। প্রথম প্রথম বিপদের কথা ভেবে বাসিন্দারা কেউ ওদিকে যেতেন না। আবার সাহস করে অনেকেই এগিয়ে যেতেন। দেখতেন মাঝে মধ্যে পাথর ও বালির উপরের অংশ দপ করে জ্বলে উঠছে। সেই আগুন না নেভানো পর্যন্ত থেকেও যাচ্ছে। অনেকে আবার ওই আগুনে রান্না করারও চেষ্টা করেন। তাতেই জমে যায় বিষয়টি। ধীরে ধীরে লোকমুখে প্রচার হতে শুরু করে।


এরপর হীরাপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে খনিজ কোল বেড মিথেনের বিপুল সম্ভার খুঁজে পায় গ্যাস উত্তোলন সংস্থার আধিকারিকরা। সেইমতো ওই সংস্থা এই গ্যাস উত্তোলন করে তাকে CNG- তে রূপান্তরিত করছে। আসানসোল দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় এই CNG গ্যাসেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল করে। বহু কলকারখানাতেও সরবরাহ হয় এই কোল বেড মিথেন গ্যাস।

আর নদী ঘাট থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুনে রান্না করার কথা শুনেই সেখানে পর্যটকদের ভিড় জমে যায়। এখন সেখানে পিকনিক করতে যান অনেকেই। আর শীতে পিনকিন করার ধুম আরও বাড়ে। স্থানীয়রাই জানান, এই আগুনে বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই। বালি ফুঁড়ে যে আগুন বের হয় তার শিখা রান্না করার জন্য যথেষ্ট। বেশি দূর পর্যন্ত ওই শিখা ওঠে না।

এদিকে পর্যটকদের ভিড় হলেও সেখানে পিকনিকের কোনও পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। নেই পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থাও। অগত্যা নদীর জলই পর্যটকদের একমাত্র ভরসা। পাশাপাশি গ্যাস মিশ্রিত ওই নদীর জল কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া সেখানে কোনও শৌচাগারও নেই। তাই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এই স্থানটির জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES