• A
  • A
  • A
এই সমুদ্র সৈকতগুলিতে কেউ জামাকাপড় পরে না

মনুষ্যসমাজের ভারী অদ্ভুত নিয়ম! নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবসময় পোশাক পরার নিয়ম। এনিয়ম মানুষেরই তৈরি। পশুপাখিদের সে বালাই নেই। তারা সব অর্থেই মুক্ত! যেমন খুশি থাকে। যেখানে খুশি থাকে। সব কিছুতেই তাদের অগাধ স্বাধীনতা। অগাধ আনাগোনা। পশুপাখিদের কাঁটাতার নেই, দেশ নেই, জাতী নেই, ধর্ম নেই। কিন্তু মানুষের জীবন এসবের চেয়ে আলাদা। শৃঙ্খলাবদ্ধ। তবুও পৃথিবীর বিশেষ কিছু জায়গায় মানুষ আদিম মানব-মানবী হয়েই বিরাজ করতে পারে স্বেচ্ছায়। বিশেষ কিছু “নিউড” বিচে।


"নিউড"! কথাটি শিহরন বিজরীত। ঢেকে রাখা অঙ্গের হঠাৎ আবরুমোচন। যেন অনেক অজানাকে জেনে ফেলার অমোঘ আকর্ষণ। তেমনই কিছু নিউড বিচ বা সমুদ্রসৈকত আছে আমাদের আশপাশে। বেহিসেবি, বেআবরু হয়ে উঠতে কাতারে কাতারে পর্যটক ভিড় জমান সেখানে। কড়া সূর্যের আলোয় মেলে ধরেন উন্মুক্ত শরীর।


হ্যাঁ, এইসব বিচে চাইলে নিজেকে উন্মুক্ত করে ফেলতে পারেন আপনিও। কেউ আপনাকে বাঁধা দেওয়ার নেই। জোর করার কেউ নেই। তবে সবটাই নির্ভর করছে আপনার ইচ্ছার উপর। আপনি চাইলেই নিউড হতে পারেন প্রকাশ্যে। যেমন -


কোপেনহ্যাগেনের বেলেভিউ বিচ, ডেনমার্ক
মধ্য কোপেনহ্যাগেন থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই বিচ। গ্রীষ্মকালে সাগরপারের হাওয়া খেতে স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটাতে আসেন। আসেন পর্যটকরাও। কেননা, বছরের এই সময়টাতেই বেলেভিউ হয়ে ওঠে উন্মুক্ত এক স্বর্গপুরী। চারদিকে অপরূপাদের ভিড়। কারোর দেহে নেই আবরুর লেশ। ৭০০ মিটারের লম্বা সৈকতে শ্বেতশুভ্র নারীপুরুষ হেঁটে বেড়ান পোশাকহীনভাবে। নিজের খেয়ালে।


ভ্যানকুভারের রেক বিচ, ব্রিটিশ ক্যাম্বোডিয়া
৭.৮ কিলোমিটার লম্বা বিচটি উত্তর অ্যামেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় বিচ। স্থানীয়রা ছাড়াও এই বিচে বেড়াতে আসেন দেশ-বিদেশের সমুদ্রপ্রেমী। প্রতি মাসে সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয় বিচে। গান করতে আসেন নামীদামি শিল্পী। সেইসঙ্গে আরও একটি কারণে এই বিচ জনপ্রিয়। রেক বিচ পৃথিবীর অন্যতম নিউড বিচ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পোশাকহীন হয়ে ঘুরতে পারেন সেখানে। অয়েল ম্যাসাজ করাতে পারেন। বডি পেইন্ট করাতে পারেন। ভলিবল খেলতে পারেন। বা স্রেফ বিশ্রামও নিতে পারেন। এত স্বাধীনতার মধ্যেও বিনা অনুমতিতে কেউ কারোর অঙ্গ স্পর্শ করে না। কেননা, ওদেশের মানুষ জানে, কারোর অনুমতি ছাড়া অঙ্গ স্পর্শ করা বেআইনি।


মিয়ামির হাউলাভার বিচ, ফ্লোরিডা

নিউড বিচের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও এই বচি। প্রতিদিন সেখানে ৭,০০০ মানুষ ভিড় জমান। বিচে রয়েছে লাইফগার্ড, পাবলিক রেস্টরুম, পোশাক পালটানোর রুম, কনসেশনস্। ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা টহল দেয় পুলিশ। বিচের অন্যতম আকর্ষণ সাদা বালি, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও চোখে পড়ে না। সারাবছর আরামদায়ক আবহাওয়া থাকে। পরিবারের সঙ্গেও মানুষ ছুটি কাটাতে আসেন হাউলাভার বিচে।


বাহিয়ার মাসারানডুপিও বিচ, ব্রাজ়িল
গোটা বিচটাকে নিউড বললে ভুল বলা হবে। ১.৫ কিলোমিটার লম্বা বিচের ছোট্ট একটি অংশ “নিউড জ়োন”। বাকি বিচে বিকিনি পরতে মানা নেই। কিন্তু একেবারে ছিন্নবস্ত্র হওয়ার অনুমতি নেই। ব্রাজ়িলের এই বিচের মাহাত্ম প্রকৃতি। চারদিকে নারকেল গাছের সারি। অনেকটা আমাদের চাঁদিপুর, দীঘার মতো।


ইবিজ়ার এস ক্যাভালেট বিচ, স্পেন
ইবিজ়া শহরের রাতের উল্লাস শান্ত আশ্রয় খোঁজে সকালের সাগরপারে। সাদা বালু ছড়ানো সৈকতে রাতের ক্লান্তি হারিয়ে যায় নিমেশে। এমনই মনে করেন স্পেন ঘুরতে আসা পর্যটকরা। নিঃসন্দেহে বিচটি অন্যতম নিউড বিচ। তবে বয়স্কদের তুলনায় সেখানে তরুণ-তরুণীদের দেখতে পাওয়া যায় বেশি। শ্বেতাঙ্গ বিস্তার করে, সূর্যের তাপ নিতে শুয়ে থাকতে দেখা যায় ইউরোপীয় অপ্সরাদের। বছর শেষে পার্টি হয়ে সেখানে। ভিড় বাড়ে দ্বিগুণ।


ক্রেটের প্লাকিয়াজ় বিচ, গ্রিস
গ্রিসের ঐতিহাসিক গল্প-কাহিনির ফাঁকে খানিক স্বস্তি খুঁজতে পর্যটকরা চলে আসেন ক্রেটে শহরের প্লাকিয়াজ় বিচে। খাড়া বাঁধের একেবারে নীচে সমুদ্র, আর তার পারেই এই নিউড বিচ। গ্রিক কন্যারা সেখানে রোদ পোহাতে আসেন। শ্বেতশুভ্র অঙ্গ তামাটে করার আশায়। কেননা ওদেশের মানুষ মনে করেন, ভারতীয়দের মতো শ্যামলা বর্ণেই লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্য। পাশাপাশি স্কুবা ডাইভিং, উইন্ড সার্ফিং করার আদর্শ জায়গা এই বিচ।


সেন্ট বার্টসের গ্র্যান্ড স্যালাইন বিচ, ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ড
প্রথমেই বলি, এই বিচের প্রধান আকর্ষণ প্রকৃতি। বাকি পৃথিবীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরার অনুভূতি পাওয়া যায় এই বিচে এসে। নিজেকে মনে হয় দ্বীপের রাজা। জায়গাটিতে বুনো, আদিম একটা গন্ধ আছে। তাই সেখানে আদম-ইভের মতো উন্মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোতেও দোষ নেই।


মন্টালিভেটের লে সেন্ট্রো হেলিও মেরিন বিচ, ফ্রান্স
১৯৫০ নিউডিস্ট মুভমেন্টের সময় ফ্রান্সের এই বিচটি নিউড বিচ হিসেবে মান্যতা পায়। এখান থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত ৬০ বছর ধরে সপরিবারে মানুষ এই বিচে ঘুরতে আসেন। বস্ত্রহীন অবস্থায় সময় কাটিয়ে যান। বিচের অতবড় নাম কেটেছেটে হয়েছে CHM। বিচে রিসর্ট আছে। অনেকে রিসর্ট বুকিং করে বেড়াতে আসেন। রোদ পোহাতে বিচের বালিতে শুয়ে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সত্যি বলতে কী, আন্দোলনের ইতিহাসের কারণেই বোধহয়, অন্যতম নিউড বিচের তালিকায় লে সেন্ট্রো হেলিও মেরিন আজও সবার আগে।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES