• A
  • A
  • A
গেস্ট-হাউজ় চালাতেন তৃণমূল নেতা, রমরমিয়ে চলত দেহব্যবসা

কোন্নগর, ১২ জুলাই : কোন্নগর স্টেশন থেকে মিনিট দশেকের দূরত্ব। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঝোলে ব্যানারও। লেখা, "মনোরম পরিবেশ। আধুনিক ,সুসজ্জিত ও সবরকমের সুবিধাযুক্ত গেস্ট-হাউজ়। আসুন। সুবিধা নিন।" সুবিধা বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে তা বোঝা গেল গতরাতে। যখন CID-র টিম হানা দিল বিশ্রামিকা গেস্ট-হাউজ়ে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, গেস্ট-হাউজ়ের আড়ালে রমরমিয়ে চলছে দেহব্যবসার কারবার। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ম্যানেজার সহ চারজনকে। পরে জানা যায়, ওই গেস্ট-হাউজ়ের নেপথ্যে আছেন তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা। আর তা নিয়েই চর্চা চলছে কোন্নগরে।

ভিডিওতে শুনুন স্থানীয় কাউন্সিলর স্বপনকুমার দাসের বক্তব্য


বিশ্রামিকা পৌরসভার গেস্ট-হাউজ়। লিজ়ে চলে। লিজ় নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শ্যামল মণ্ডল। বেশ প্রভাবশালী। স্থানীয়রা বলেন, "শ্যামলদা ছোটো-বড় কাউকেই ছাড়েন না। মানুষকে সাহায্যও করেন। তবে, রাগটা একটু বেশি। কেউ তাঁর কাজে বাগড়া দিলে তো হয়েই গেল।" লোকমুখে শোনা যায়, শ্যামলবাবু পৌরসভার চেয়ারম্যান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। আর স্থানীয় কাউন্সিলর স্বপনকুমার দাসের বিরোধী। বাপ্পাদিত্য অবশ্য বলছেন, "শ্যামল মণ্ডলকে টাকার বিনিময়ে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে আমার কিছু জানার কথা নয়। জানতামও না। সেখানে দেহব্যবসা চলছে তা কী করে জানব ? কাল জানতে পারলাম। আপনাদের কাছ থেকেই শুনছি শ্যামল তৃণমূল করে। যাই করুক, অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হবে। ওর লিজ় বাতিল করা হল। পুলিশকে বলব, কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিন।"


শ্যামল মণ্ডল

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে (ওই বছরই গেস্ট-হাউজ়টি চালু হয়) ৮০ হাজার টাকার লিজ়ে বিশ্রামিকা গেস্ট-হাউজ় হাতে নেন শ্যামলবাবু। ২ বছর পর লিজ় পুনর্নবীকরণ হয়। চলতি বছরে সেই লিজ়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই অবশ্য এই কাণ্ড ধরা পড়ল। এ বিষয়ে কিছুই কি জানতেন না স্থানীয় কাউন্সিলর স্বপনকুমার দাস ? তিনি বলেন, "আমি জানতাম। সবই জানতাম। শ্যামল মণ্ডলই গেস্ট-হাউজ় চালাত। আমি কাউন্সিলর হিসেবে দুঃখিত, লজ্জিত। ক্ষমাপ্রার্থী। এলাকার মানুষ আমায় বহুবার অভিযোগ জানিয়েছে। কিন্তু, আমি কাকে জানাব ? যাকে জানাতে যাব, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে পিটিয়ে দেবে। এলাকার মানুষ সব মুখ বুঝে সহ্য করছে। বলতে গেলেই হামলা নেমে আসবে। তৃণমূলের নামধারী কয়েকজন, টাকা-পয়সা রোজগারের জন্য এসব করছে। এ জিনিস আমরা আর বরদাস্ত করব না। পৌরসভার কেউ না কেউ তো জড়িত এর সঙ্গে। শীর্ষস্থানীয় লোকজন যদি জড়িত না থাকে তাহলে কি এসব করতে পারবে ?" তাঁর অভিযোগ কার দিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


উদ্ধার হওয়া মহিলা

বিশ্রামিকা গেস্ট-হাউজ় ইশুতে মুখ খুলেছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। অনেকে বলছেন, শ্যামল নাকি প্রবীর ঘোষালেরও ঘনিষ্ঠ। তবে, এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন প্রবীরবাবু। তাঁর সাফ কথা, "কোন্নগরের বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় আছে। শ্যামল তাদেরই একজন। ওর সঙ্গে আলাদা কোনও সম্পর্ক নেই। আর যা হয়েছে তাতে আমি লজ্জিত। দোষীর শাস্তি হবেই। পুলিশকে বলেছি কড়া ব্যবস্থা নিতে। পৌরসভাকেও বলেছি, কাউকে লিজ় দেওয়ার আগে খতিয়ে দেখতে।"

এই সংক্রান্ত আরও খবর : কোন্নগর পৌরসভার গেস্ট হাউজ়ে দেহব্যবসা, ৮ মহিলা সহ আটক ১২
কোথায় আছেন শ্যামলবাবু ? শোনা যাচ্ছে, উত্তরপাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি ধাঁ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  জনমত পঞ্চমত ২০১৮

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  MAJOR CITIES